বগুড়ায় নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে আহত অন্তত ১১২, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ১১২ জন আহত হয়েছেন। তারা নওগাঁ সদর হাসপাতাল ও আদমদিঘী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আজ বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বাগবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বাগবাড়ি এলাকায় গত ১৫-২০ দিন লাইন সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন দুপুর ২টার দিকে বাগবাড়ি এলাকা পার হচ্ছিল। এসময় ট্রেনের ইঞ্জিন পার হতে পারলেও বগি লাইনচ্যুত হয়। এসময় ট্রেনটির ১৪টির মধ্যে ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। আতঙ্কে ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীরা লাফিয়ে নিচে পড়ে আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পর রংপুরগামী সব ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, চালক সিগনাল না বুঝে দ্রুত গতিতে ট্রেন চালিয়ে যাচ্ছিল। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, 'পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি এবং রেলওয়ে মহাপরিচালক কার্যালয় থেকে চার সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয় থেকে গঠিত তিন সদস্যের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- রেলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা, পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান প্রকৌশলী ও চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার।'
তিনি আরও বলেন, 'ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে দ্রুত সময়ে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
দুর্ঘটনার খবরে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, এই ঘটনায় ১১২ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ২২ জন নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় ট্রেনসহ অন্যান্য বিষয়ে সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে জেলা পুলিশ। প্রয়োজনে নওগাঁ জেলা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হবে।
এর আগে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান সিভিল সার্জনদের বরাত দিয়ে জানিয়েছিলেন, নওগাঁ সদর হাসপাতাল ও আদমদীঘী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স মিলে মোট ৬৪ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ৫৫ জন ও বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ৯ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি আরও জানিয়েছিলেন, এছাড়া গুরুতর আহত হয়ে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ১৮ জন এবং বগুড়ার হাসপাতালে ২ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।
গুরুতর আহতদের পায়ে আঘাত পেয়েছে। তাদের অপারেশন করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক।
