ঈদের আগে ৩০% কারখানার শ্রমিক বোনাস পাননি, বেতন বাকি ১০% কারখানায়
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সরকার নির্ধারিত সময়সীমা পেরোনোর পাঁচ দিন পরও দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কারখানা শ্রমিকদের ঈদের বোনাস পরিশোধ করতে পারেনি।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ১২ মার্চের মধ্যে বোনাস এবং ৯ মার্চের মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের কথা ছিল। তবে শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১০ হাজার ১০০ কারখানার মধ্যে ৩ হাজারের বেশি—প্রায় ৩০ শতাংশ—কারখানা এখনো ঈদের বোনাস দেয়নি।
এছাড়া ১ হাজার ২৬টি কারখানা, অর্থাৎ প্রায় ১০ শতাংশ, ফেব্রুয়ারির বেতনও পরিশোধ করেনি। এদিকে, ইতোমধ্যেই ছুটি হয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান।
এসব কারখানার মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের কারখানাই তিন হাজারের বেশি। এ ছাড়া টেক্সটাইল, কেমিক্যালসহ অন্যান্য খাতের ছোট-বড় কারখানাও রয়েছে।
গত বছরগুলোতে তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে কোন খাতে কতটি কারখানায় বেতন ও বোনাস বকেয়া রয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি শিল্প পুলিশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিল্পাঞ্চল পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "আগে পোশাক খাতের তথ্য প্রকাশ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতো। তাদের তথ্যের সঙ্গে আমাদের তথ্যের গড়মিল থাকত। তাই এই খাতের আলাদা তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।"
এ ছাড়া অন্যান্য কোন খাতের কারখানা বেতন ও বোনাস পরিশোধে বেশি পিছিয়ে রয়েছে, তাও জানায়নি শিল্পাঞ্চল পুলিশ।
যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি এমডি রেজওয়ান সেলিম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "আমাদের চালু কারখানা ১ হাজার ৭৮৫টি। এর মধ্যে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পর্যন্ত মাত্র ৩২টি কারখানায় বোনাস পরিশোধ হয়নি। আর ফেব্রুয়ারির বেতন বকেয়া রয়েছে ১৮টি কারখানায়।"
এদিকে শ্রমিক নেতারাও বলছেন, এ বছর এখন পর্যন্ত বেতন ও বোনাস ইস্যুতে বড় ধরনের কোনো অসন্তোষের খবর তাদের কাছে নেই।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অসন্তোষের কথা শুনিনি। আশা করছি, এবার শ্রমিকদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে।"
তিনি বলেন, "সরকার পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধের জন্য ২,৫০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি বকেয়া থাকা নগদ প্রণোদনার টাকাও ছাড় করা হয়েছে। এরপরও যদি কোনো কারখানা মালিক বেতন-বোনাস পরিশোধে টালবাহানা করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
