এনবিআরের কাছে বাড়তি রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে সরকার
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপিতে রাজস্বের অবদান বা 'ট্যাক্স টু জিডিপি রেশিও' ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে গত অর্থবছরের তুলনায় বাড়তি প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হবে। অর্থাৎ গত অর্থবছরের চেয়ে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হতে হবে প্রায় ৩৪ শতাংশ। তবে বাস্তবতা হলো, গত জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে এই প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশের কম।
এমন পরিস্থিতিতে অর্থবছরের বাকি চার মাসে (মার্চ থেকে জুন) বর্ধিত রাজস্ব আদায়ের জন্য এনবিআর কী কী পদক্ষেপ নেবে এবং কোন কোন খাত থেকে আদায় বাড়াবে—তা দ্রুত জানাতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর সদর দপ্তরে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ভ্যাট বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিবিএসকে বলেন, 'সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর সুযোগ কম। কিছু রাজস্ব আদায় বাড়তে পারে বকেয়া আদায়ে স্পেশাল ড্রাইভ দেওয়ার মাধ্যমে।'
রাজস্ব আদায়ে সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, 'স্থানীয় ও বৈশ্বিক কারণে দেশের অর্থনীতিতে এখন প্রাণচাঞ্চল্য নেই। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি। আমদানি-রপ্তানিতেও গতি নেই। তাহলে এত বিশাল রাজস্ব আসবে কীভাবে?'
তিনি বলেন, অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে নতুন করে কর বাড়ানোর সুযোগও নেই। ফলে চলতি অর্থবছরে আদায়ের গতি যাই হোক না কেন, পরবর্তী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভালো অগ্রগতির জন্য আগামী বাজেটে কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ট্যাক্স টু জিডিপি রেশিও ৬.৬ শতাংশে নেমে এসেছিল, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে। অন্যদিকে, জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি সরকার অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই এনবিআরের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে এনবিআরের প্রায় এক লাখ কোটি টাকার রাজস্ব বকেয়া পড়ে আছে। এর একটি বড় অংশ অমীমাংসিত এবং অন্য অংশটি আইনি জটিলতা বা মামলায় আটকা। কর্মকর্তাদের ধারণা, অর্থবছরের বাকি সময়ে যদি এই বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের অভিযান চালানো যায়, তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আদায় করা সম্ভব। এর বাইরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বাড়তি রাজস্ব আদায়ের সুযোগ সীমিত।
এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন মাস থেকে রাজস্ব আদায়ে গতি মন্থরতা এসেছে। অর্থবছরের শুরুতে যে প্রবৃদ্ধি ছিল, তা এখন ক্রমশ কমতির দিকে। এমন অবস্থায় আগামী মাসগুলোতে স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখাই এনবিআরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
