সিলেটে পেট্রোল পাম্পে সিরিয়াল নিয়ে বাকবিতণ্ডা, কর্মচারীকে ছুরিকাঘাত; তেল বিক্রি বন্ধ, ধর্মঘটের ডাক
সিলেট নগরীতে পেট্রোল পাম্পে সিরিয়াল ভেঙে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক কর্মচারীকে ছুরিকাঘাত করেছেন গ্রাহক। সোমবার (৯ মার্চ) ইফতারের আগে নগরীর চৌকিদেখী এলাকার মেসার্স উত্তরা পেট্রোলিয়াম পাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র। তিনি বলেন, 'পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে এক গ্রাহক ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মীকে ছুরিকাঘাত করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।'
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত তাকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।'
আহত কর্মচারী মিঠু গোয়ালা মালিনীছড়া চা-বাগানের বিজয় গোয়ালার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে ইফতারের ১৫-২০ মিনিট আগে চৌকিদেখী এলাকার মেসার্স উত্তরা পেট্রোলিয়াম পাম্পে তেল নিতে আসা এক গ্রাহককে সিরিয়াল মেনে আসতে বলা হয়। কিন্তু ওই গ্রাহক সিরিয়াল ভেঙে সরাসরি তেল নিতে চান। এ নিয়ে পাম্পের কর্মচারীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তিনি চলে যান।
তবে তিনি ইফতারের দুই মিনিট আগে আবার পাম্পে ফিরে এসে মিঠু গোয়ালাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মেসার্স উত্তরা পেট্রোলিয়ামের ম্যানেজার মারুফ আহমদ চৌধুরী বলেন, 'তেল নিতে আসা এক ব্যক্তিকে সিরিয়াল মেনে আসার অনুরোধ করা হলে তিনি তা অমান্য করেন। এই নিয়ে পাম্প কর্মীদের সাথে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তিনি চলে যান। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে ছুরিকাঘাত করে চলে যান।'
এদিকে, কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে অপ্রীতিকর ঘটনার পর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন সিলেটের সিএনজি রিফুয়েলিং ও পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীরা। দুই দফা দাবিতে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়ে সোমবার রাতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা।
সিএনজি রিফুয়েলিং ও পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেটের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আহমদ বলেন, 'আজ (সোমবার) আমার পাম্প, চৌকিদিখি এলাকার আরেকটি পাম্পসহ সিলেটের কয়েকটি পাম্পে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তেল না পেয়ে বিভিন্ন পাম্পে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এমন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় আমাদের পাম্প চালু রাখা সম্ভব না।'
তিনি বলেন, 'আমরা ডিপো থেকে চাহিদামাফিক তেল সরবরাহ পাচ্ছি না। ফলে গ্রাহকদের চাহিদামতো তেল দিতে পারছি না।'
তিনি আরও বলেন, 'দুই দফা দাবিতে আমরা আজ রাত থেকে আমরা সিলেটের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মঙ্গলবার দুপুর ২টার মধ্যে পেট্রোল পাম্পে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও ডিপো থেকে চাহিদামাফিক তেল সরবরাহের দাবি আমাদের।'
