সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে ৭০% কিডনি রোগ প্রতিরোধ সম্ভব: বিশেষজ্ঞরা
দেশে কিডনি রোগের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করা গেলে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শনিবার (৭ মার্চ) অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এ কথা জানান।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার রোগীর ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়।
বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'জলবায়ু পরিবর্তন ও কিডনি রোগ: ঝুঁকি ও করণীয়' শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)।
আলোচনায় বক্তারা কিডনি রোগ ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসা ব্যয় কমানো, সারা দেশে ডায়ালাইসিস ও চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তারা বলেন, রোগ দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সেবার প্রাপ্যতা বাড়াতে সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরেন তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)-এর চেয়ারম্যান এবং আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান ডা. এম এ সামাদ।
মূল বক্তব্যে ডা. এম এ সামাদ বলেন, বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য অনেক অজানা কিডনি রোগের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত কারণের ভূমিকা তুলে ধরেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ কিডনি রোগ। বর্তমানে প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ এ রোগে ভুগছেন।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশে কিডনি রোগ ধীরে ধীরে মহামারিতে রূপ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত কারণ নতুন হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।"
বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ বলেন, কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ—কিডনি ক্ষতির দুই প্রধান কারণ—কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
তিনি বলেন, সচেতনতার অভাব এখনো বড় সমস্যা। "প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপে কিডনি রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ হয়। কিন্তু তৃতীয় ধাপে পৌঁছে গেলে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।"
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জোবায়দা বেগম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম, পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি আফরোজা বেগম, সহকারী অধ্যাপক ফারহাদ হাসান চৌধুরী, সাবেক সচিব খন্দকার মোস্তান হোসেন, ক্যাম্পসের সাধারণ সম্পাদক হারিসুল হক, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মিজানুর রহমান পিন্টু, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, কুমুদিনী উইমেনস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, ক্যাম্পসের নির্বাহী পরিচালক রেজওয়ান সালেহীন এবং কবি নাসরিন বেগম।
বক্তারা কিডনি রোগ প্রতিরোধ, স্বল্প খরচে চিকিৎসা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণে গত ২২ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করার জন্য ক্যাম্পসের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
