জটিল রোগে আক্রান্ত ছোট্ট রাফির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন আর্থিক সাহায্য
দশ বছরের রাহাতুল ইসলাম রাফি। ফুটফুটে এই শিশুটির জীবনের লড়াই শুরু হয়েছিল মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে। হঠাৎ একদিন খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়ে স্ট্রোক করে সে; মূহূর্তেই অবশ হয়ে যায় শরীরের ডান পাশ। ঢাকা শিশু হাসপাতালে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে তার মস্তিষ্কের রক্তনালীর একটি বিরল রোগ যার নাম 'ময়াময়া'।
সে সময় দেশে এই রোগের কার্যকর চিকিৎসা না থাকায় চিকিৎসকদের পরামর্শে অনেক কষ্টে অর্থ যোগাড় করে ভারতের বেঙ্গালুরুতে রাফির সার্জারি করানো হয়। চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে আবার হাঁটতে শেখে সে, ভর্তি হয় মহাখালীর আমতলী স্কুলেও। কিন্তু সেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরাটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি হঠাৎ তীব্র জ্বরের পর আবারও খিঁচুনি ও স্ট্রোকের শিকার হয়ে বর্তমানে শয্যাশায়ী রাফি।
আমেরিকান ব্রেইন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, 'ময়াময়া' হলো মস্তিষ্কের রক্তনালীর এমন একটি ব্যাধি, যেখানে মস্তিষ্কের ভিত্তিপ্রদেশের রক্তনালীগুলো সরু হয়ে ব্লক হয়ে যায়। ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়ে বারবার স্ট্রোক ও খিঁচুনির ঝুঁকি তৈরি হয়।
রাফির বাবা মোহাম্মদ আবুল হাসান শেখ রাজধানীর একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পিওন হিসেবে কর্মরত। দুই সন্তানের মধ্যে রাফি ছোট। বড় ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। স্বল্প আয়ের এই মানুষটির পক্ষে দ্বিতীয়বার ছেলের চিকিৎসার পাহাড়সম ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আবুল হাসান শেখ বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'সাড়ে তিন বছর বয়সে যখন প্রথম ধরা পড়ে, তখন আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতা, ধার-দেনা আর শেষ সম্বল বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে রাফিকে ভারতের বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যাই। সার্জারির পর ছেলেটা ভালোই ছিল, স্কুলে যাওয়াও শুরু করেছিল। কিন্তু নতুন বছরের প্রথম দিনেই সব ওলটপালট হয়ে গেল। ১ জানুয়ারি আবার স্ট্রোক করার পর তাকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ৮ জানুয়ারি তাকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, দ্রুত তাকে আবারও ভারতে নিয়ে সার্জারি করাতে হবে। না হলে ছেলেটাকে বাঁচানো কঠিন হবে।'
রাফির বর্তমান অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার ডান হাত ও পা প্রায় অবশ, হাঁটতে পারছে না। অধিকাংশ সময় অসহ্য ব্যথায় বিছানায় কেঁদে কাটে তার দিন। চিকিৎসকদের মতে, পুনরায় ভারতের নিয়ে চিকিৎসার জন্য অন্তত ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন।
পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে আবুল হাসান বলেন, 'আমি মাসে বেতন পাই ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে আগের চিকিৎসার ঋণের কিস্তিতেই কেটে নেয় ১৫ হাজার টাকা। বাকি ১০ হাজার টাকায় দুই ছেলের পড়াশোনা, ঘর ভাড়া আর সংসার চলে না। গ্রামের বাড়ি নড়াইলের শেষ জমিটুকুও বিক্রি করে দিয়েছি। বর্তমানে ব্যাংকে আরও ৩ লাখ টাকা ঋণ আছে। ছেলেটাকে বাঁচাতে চাই, কিন্তু আমার আর কোনো শক্তি নেই।'
অসহায় এই বাবা তাঁর ছোট্ট সন্তানকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও দয়ালু মানুষদের কাছে আর্থিক সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট:
নাম: MD. ABUL HASSAN SHAIKH
অ্যাকাউন্ট নম্বর: 2897101097910
পুবালী ব্যাংক লিমিটেড, শিশু পার্ক শাখা।
বিকাশ ও রকেট নম্বর:
01672876133
