৪১ দফা ইশতেহার: স্বাস্থ্যবিমা ও ডিজিটাল হেলথ কার্ড চালু করবে জামায়াত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা (ন্যাশনাল হেলথ ইনস্যুরেন্স) এবং ডিজিটাল হেলথ কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে বাজেট ধাপে ধাপে তিনগুণ বাড়ানো হবে বলে দলটির নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। এতে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ৩৭টি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
ইশতেহারে বলা হয়, ৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। ক্ষমতায় গেলে প্রথম ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বিদ্যমান সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান শতভাগে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, যন্ত্রপাতির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
ইশতেহারে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী-রোগীর অনুপাত আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কথা বলা হয়। শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজধানীকেন্দ্রীক চাপ কমানোর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। জেলা ও উপজেলায় ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি জেলায় পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন এবং জেলা সদর সরকারি হাসপাতালে অন্তত ৫ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ইউনিয়ন ও গ্রামপর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে রেজিস্টার্ড স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ওষুধ সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। শহরাঞ্চলে প্রতিটি ওয়ার্ডে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র (জিপি সেন্টার) কার্যকর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য টেলিমেডিসিন ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেম চালু, নারী ও শিশু চিকিৎসায় অগ্রাধিকার, প্রবীণদের জন্য বিশেষ সেবা, দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের হোম কেয়ার ও প্যালিয়েটিভ কেয়ারের ব্যবস্থার কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন ও দুর্নীতি দমনে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্রয়-বিক্রয় পাবলিক ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং ই-জিপি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও ওষুধ লেখার অনিয়ম বন্ধে আইন ও মনিটরিং জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মানহীন হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও মেডিকেল কলেজগুলোর মানোন্নয়ন, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশনের আওতায় আনা, বিএমইউ সুপার-স্পেশালাইজড হাসপাতাল দ্রুত চালু করা এবং স্বাস্থ্যখাতে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথাও ইশতেহারে বলা হয়েছে।
ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কৌশল বাস্তবায়ন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা, দেশেই ভ্যাকসিন উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
হাসপাতালের রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সিরিয়াল, ভর্তি, অপারেশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ প্রাপ্তিতে আটামেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
এতে আরো বলা হয়, ৩০০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রিত এবং ন্যায্য মূল্যে প্রদান করা হবে; ধাপে ধাপে ৫০০ টিতে উন্নীত করা হবে।
হাসপাতালে রোগীদের খাবারের গুণগত মান প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট বিরতিতে অজ্ঞাতনামে পরীক্ষা করা হবে।
এছাড়া বাংলাদেশে একাধিক আন্তর্জাতিক মানের মডেল হাসপাতাল চালু করে মেডিকেল ট্যুরিজমাক ব্র্যান্ডিং করা হবে। চিকিৎসাসেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্য যাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
টিকাদান কর্মসূচিতে স্বনির্ভর হওয়ার লাক্ষা বাংলাদেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করা হবে।
এতে আরো বলা হয়, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ করে আসক্তি ও আত্মহত্যা প্রতিবোধে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে। স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রতিটি সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
ওষুধ কোম্পানি ও ওষুধগুলোকে গ্রেডেশনের আওতায় আনতে হবে। গ্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে মেডিসিনের কোয়ালিটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
