রাজধানীতে অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে অপহৃত স্কুল ছাত্রকে এক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধারের পর এবার চার অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রমনা মডেল থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— তানভীর আহমেদ ওরফে ফাহিম (২৪), ইফফাত ইয়ামিন লিখন (২৩), হাসান আল বান্না ওরফে হাসান (২০) ও মুস্তাকিমুর রহমান ওরফে কুঞ্জ (২১)।
পুলিশ জানায়, অপহৃত আফনান সাঈদ খিলগাঁওয়ের ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা খন্দকার শামীম সচিবালয়ের একজন কর্মচারী।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ডিসি মাসুদ আলম জানান, গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে আফনান রমনা মডেল থানাধীন সিদ্ধেশ্বরীর শান্তিনগর মোড়ে আল মদিনা প্যালেসের বাটা শোরুমের সামনে পৌঁছালে অপহরণকারীরা তাকে কৌশলে চামেলিবাগের একটি নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যায়। এরপর ফোনে তার মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে তারা আফনানের বাবার কাছে বিকাশের মাধ্যমে টাকা চায় এবং মুক্তিপণ না দিলে কিশোর আফনানকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীর বাবা নিরুপায় হয়ে সচিবালয়ে কর্মরত থাকার সুবাদে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ওই স্কুল ছাত্রকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গোয়েন্দা তথ্য ও উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ওই নির্মাণাধীন ভবন থেকে আফনানকে উদ্ধার করা হয়। এরপর বুধবার অভিযান চালিয়ে চার অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা এর আগেও ছয়টি অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা পরস্পর যোগসাজশে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও অপহরণের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করত। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
