গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল। জনগণের কষ্টের দায় স্বীকার করে সরকার এই সংকট নিরসনে কাজ করছে।
ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাহেদ উর রহমান আজ এ কথা বলেন।
ডা, জাহেদ বলেন, তবে সংকট পুরোপুরি নিরসন হতে কমপক্ষে আরও দুই বছর সময় লাগবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার এগোচ্ছে। সাময়িক সমস্যা যেন খুব বেশি না হয়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দেশব্যাপী প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভাগীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। বিপন্ন প্রায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে হবে।
এছাড়া, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়াতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় গ্যাস সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের প্রশ্নে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিরোধী দল দায় চাপিয়ে দেবেন, এটা তারা করবেই, কিন্তু ব্লেইম করা উচিত না। বিরোধী দল অপ্রয়োজনে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে, দুর্ভোগ সৃষ্টি করলে জনগণ তাদের প্রত্যাখান করবে।
তিনি বলেন, রাজপথের চেয়ে ভালো জায়গা সংসদ, তারা সেখানে যাক, যুক্তি তুলে ধরুক। তারা অযৌক্তিক আন্দোলন করে জনগণের ভোগান্তি তৈরি করছে।
তিনি বলেন, মানুষ একটু না, মানুষ আসলে যথেষ্ট কষ্ট পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমাদের বক্তব্যটা খুব স্পষ্ট। মানুষের কষ্টটা সত্য। কিন্তু এটার জন্য আমাদেরকে দোষ দেওয়াটা ঠিক না। বিরোধীদল আমাদের ওপর দায় চাপিয়ে দেবেন, দিয়ে তারা আন্দোলন করবেন, এটাও যৌক্তিক নয়।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তবে বাংলাদেশ এখন একটা জ্ঞানভিত্তিক সমাজের দিকে পৌঁছেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। যেখানে অহেতুক যদি কাউকে দায় দেওয়া হয়, সেটা মানুষ শুনবে বলে মনে হয় না।
তিনি বলেন, আপনারা খুব ভালোভাবেই জানেন, জ্বালানির যে সংকটের মুখোমুখি এখন আমরা হচ্ছি, এটা দীর্ঘদিনের একটা পুঞ্জীভূত সমস্যা এবং একটা দুর্ঘটনা। সুতরাং দুর্ঘটনাটা যদি ঠিক হয়ে যায়, এটা ঠিক হয়ে যাবে। ঠিক হয়ে গেরে, আমাদের গ্যাসের যে চাহিদা আছে, এই দুটো কারখানা কাজ করলেও আমাদের সরবরাহ তাও প্রায় একশ কোটি ঘনফুট কম থাকে। এটা তো আসলে বছরের পর বছর ধরে হয়েছে। এটার জন্য আমরা খুব দ্রুত স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছি।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
এ সময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব দীপংকর বিশ্বাস, রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
