৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাপানে শ্রমশক্তি রপ্তানির পরিকল্পনা জমা দেওয়া হবে
জাপানে দক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানি বাড়াতে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
গতকাল (২২ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনার ধারাবাহিকতায় গতকালের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে জাপানে শ্রমশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
কর্মকর্তারা জানান, ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ২০টি কর্মসূচির কথা উল্লেখ রয়েছে। এই ইশতেহার যেহেতু জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে, তাই এটি মূলত জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণেই মন্ত্রণালয় এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সভায় তুলে ধরা হয়, ২০৪০ সাল নাগাদ জাপানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ তরুণ কর্মীর প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের শ্রমশক্তিতে বর্তমানে প্রায় ২৩ লাখ উদ্বৃত্ত তরুণ রয়েছেন। তাই জাপানের এ চাহিদা মেটাতে এবং বিশ্বের অন্যান্য শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে অদক্ষ কর্মীদের কীভাবে দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়, সে বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় সারা দেশে ৩৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) থেকে বাড়িয়ে ৫৩টি টিটিসিতে জাপানি ভাষা ও ট্রেড-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ সুবিধা দিচ্ছে। জাপানি ভাষার প্রশিক্ষকদের ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সভায় আরও শিক্ষক নিয়োগ ও ভাষা প্রশিক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়।
জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা খতিয়ে দেখতে প্রায় ২০০টি বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও রিক্রুটিং এজেন্সির ভূমিকা নিয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।
জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশকে কীভাবে এগিয়ে রাখা যায়, সে বিষয়ে সভায় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। এ বিষয়ে বেশ কিছু স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে। কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিমধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে এবং কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে আরেকটি ফলোআপ সভার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা তৈরির লক্ষ্যে মতামত সংগ্রহের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদানকারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে নিয়ে পরামর্শক সভা হবে।
জাপানে শ্রমশক্তি রপ্তানি-সংক্রান্ত উদ্যোগগুলো দ্রুত এগিয়ে নিতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত সব কর্মকর্তাকে দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
