ইরান যুদ্ধ ও তেল সংকট: এশিয়ায় ‘ভয়াবহ প্রভাব’ নিয়ে উদ্বেগ জাপানি প্রধানমন্ত্রীর
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায়—বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এর ফলে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে 'ভয়াবহ প্রভাব' পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
আজ সোমবার (৪ মে) তার অস্ট্রেলিয়া সফরকালে তাকাইচি এই মন্তব্য করেন। সফরকালে দুই দেশ জ্বালানি এবং অতি-প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি সই করেছে।
সাধারণত বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে ইরান এই কৌশলগত নৌপথটি কার্যত অবরোধ করে রেখেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, এই নৌপথ দিয়ে রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশের গন্তব্যই হচ্ছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। তাই প্রভাবটাও সবচেয়ে বেশি পড়েছে এই অঞ্চলে।
এমন প্রেক্ষাপটে আজ অস্ট্রেলিয়া সফরকালে তাকাইচি বলেন, "হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে এর বিশাল নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একে অপরের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করবে বলে আমরা একমত হয়েছি।"
উল্লেখ্য, জাপানের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করে অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বৃহত্তম বাজারও হলো জাপান।
ইরান যুদ্ধের কারণে ক্যানবেরা ও টোকিও—দুই পক্ষই বর্তমানে তাদের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেন, "জাপানের মতো আমরাও তরল জ্বালানি ও পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।"
সামরিক সহযোগিতা
তাকাইচির তিন দিনের অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম দিনে দুই দেশ জ্বালানি, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা এবং খনিজ সম্পদ খাতে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক বিবৃতি দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া জাপানের সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন বিরল খনিজ প্রকল্পগুলোতে ১.৩০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৯৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পর্যন্ত সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর ফলে জাপানের জন্য গ্যালিয়াম, নিকেল, গ্রাফাইট এবং ফ্লোরাইটের মতো বিরল খনিজ সম্পদ পাওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।
জাপান সরকার জানিয়েছে, সেমিকন্ডাক্টর, বিদ্যুৎচালিত গাড়ির ব্যাটারি এবং উন্নত সমরাস্ত্র ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য এই খনিজগুলোর স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে দুই দেশই আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র অস্ট্রেলিয়া ও জাপান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং বিশেষ করে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে তাদের সামরিক সহযোগিতা জোরদার করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসে জাপান থেকে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে 'মোগামি-ক্লাস' স্টিলথ যুদ্ধজাহাজ কেনার বিষয়ে একটি বড় চুক্তি করেছে অস্ট্রেলিয়া।
