সংরক্ষিত নারী আসনে মনোয়ন পেতে বিএনপি নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপির নারী নেত্রীরা। দলের দৃষ্টি আকর্ষণে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এসব নেত্রীদের উপস্থিতি বাড়ছে। একই সঙ্গে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন তারা।
এই তৎপরতায় একদিকে যেমন সাবেক সংসদ সদস্যরা আছেন, তেমনি আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে উঠে আসা অনেক তরুণ মুখও আছেন। প্রায় শতাধিক নারী নেত্রী মনোনয়নের দৌড়ে আছেন। তবে দলীয় সূত্র বলছে, শুধু সুপারিশ নয়, মাঠ পর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক ভূমিকা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২৯৬ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে বর্তমানে সংরক্ষিত ৫০ নারী আসন রয়েছে। গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, আসনের অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি।
১৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চায় ইসি।
সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। দলীয় নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে- আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য, পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছেন—তাদের মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, শুধুমাত্র সুপারিশ নয়, মাঠ-পর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার ওপরই মূল সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে 'এক পরিবার এক প্রার্থী' নীতি মেনে চলেছে বিএনপি। নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে এ সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। সংরক্ষিত নারী আসনেও এই নীতি অনুসরণ করতে চাইছে। এ নীতি অনুসরণ করলে অনেক পরিচিত মুখ বাদ পড়তে পারেন। এতে অনেক নতুন মুখের সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। যেসব পরিবারে ইতোমধ্যে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন, তাদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি সূত্র।
আলোচনায় যারা
সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির বহু নারী নেত্রী। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, মহিলা দলের সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য এমপি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আকতার, মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা এবং রেহেনা আকতার রানু; ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী এবং সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন।
এছাড়াও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত নাসির উদ্দিন পিন্টুর বোন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, সানজিদা ইসলাম তুলি, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, নাদিয়া পাঠান পাপন, শাহিনুর সাগর, সাবেক এমপি ইয়াসমিন আরা হক, চেমন আরা বেগম, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আলম এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে আলোচনায় আছেন।
বিএনপির হয়ে সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ে কয়েকজন বিনোদন জগতের শিল্পীরাও রয়েছেন। তারা হলেন- কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন, কনক চাঁপা এবং চিত্রনায়িকা মৌসুমী।
