ফরিদপুরের চার সংসদীয় আসনের তিনটিতে এগিয়ে বিএনপি, একটিতে জামায়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনের তিনটিতে এগিয়ে বিএনপি, আর একটিতে এগিয়ে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী। এসব আসনের ৪০টি কেন্দ্রের ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী; ফরিদপুর-২ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী; ফরিদপুর-৩ আসনে জামায়াতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দিতায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী। এছাড়া, ফরিদপুর-৪ আসনে জামায়াতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন।
সারাদিনের ভোটের হিসাবে, ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনে ৫৩% থেকে ৬৬% পর্যন্ত ভোট পড়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর-১ আসনে ৩ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা মোট ভোটের ৬২%।
এছাড়া ফরিদপুর-২ আসনে মোট ভোটারের ৬৬% ভোটার ভোট দিয়েছেন। মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৯৫টি; ফরিদপুর-৩ এ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪৭ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা মোট ভোটারের ৫৮%; আর ফরিদপুর-৪ এ ২ লাখ ৫৮ হাজার ২৪ জন ভোটার, যা এই আসনের মোট ভোটারের ৫৩%।
এসব আসনের কেন্দ্রগুলোতে এখন ভোট গণনার কাজ চলছে। যেসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে গণনা শেষ হয়েছে সেখানে বিএনপি তিনটিতে, একটিতে জামায়াত এগিয়ে রয়েছে।
এর আগে, ফরিদপুরের ৪টি সংসদীয় আসনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্যে দিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ঢিমে তালে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে কেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।
ফরিদপুর-১ আসনের মধুখালী উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের আশাপুর সিনিয়র মাদরাসা কেন্দ্রে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে একটি ভোটকেন্দ্রে জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লার প্রবেশকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে প্রত্যাহার করা হয়।
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন বাজারে মাংস বিক্রির দোকানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা একটি টাইম বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ডুমাইন সরকারি প্রাথমিক বালক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের একশো গজ দূরে অবস্থিত ওই দোকানের মাংস কাটার কাঠের গুড়ির ওপর বোমা সদৃশ ওই বস্তুটি পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, রাতে ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আব্দুর রহমান জিকো নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কুচিয়াগ্রামে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ফরিদপুরের দুটি কেন্দ্রের কর্মরত দুজন প্রিজাইডিং অফিসারকে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া, আরও কয়েকটি কেন্দ্রের দুজন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও একজন পোলিং অফিসারকে প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে, ফরিদপুরের হেভিওয়েট প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দেন। সকাল আটটায় নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর ২ আসনের বিএনপি'র প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।
ফরিদপুর ৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল সকাল ৯টায় ভোট দেন সদরপুর উপজেলার বিশ্ব জাকের মঞ্জিল স্কুলে।
ফরিদপুর ৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ সকাল সাড়ে আটটায় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ভোট দেন। একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী প্রফেসর আবদুত তাওয়াব লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুলে ভোট দেন।
এদিকে, ভোট নিয়ে দুপুরে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর ২ আসনের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেন, 'মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জামায়াত জোটের লোকেরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে নগদ অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তারা অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়।'
তিনি আরও বলেন, 'একইসঙ্গে নগরকান্দা-সালথার কিছু কিছু কেন্দ্র দখলের চেষ্টা তারা চালিয়েছে।'
ফরিদপুরে এবার ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রে ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯২২ জন ভোটার। নির্বাচনে ফরিদপুরের চারটি আসনে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীসহ মোট ২৮ জন প্রার্থী অংশ নেন।
