বাংলাদেশে চীনের প্রভাব নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উদ্বেগ ফের নাকচ করল চীন
দক্ষিণ এশিয়ায় বেইজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক মন্তব্য আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে চীন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন। বেইজিংয়ের সঙ্গে কিছু ধরনের সম্পৃক্ততার সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরতে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করারও ইচ্ছা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
ক্রিস্টেনসেন বলেন, "বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিকল্প দিতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (ডিফেন্স সিস্টেম) পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোর ব্যবস্থাও রয়েছে—যা চীনা ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।"
রয়টার্স জানায়, সম্প্রতি ভারত সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন কারখানা নির্মাণে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে চীন। এতে বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে 'জেএফ-১৭ থান্ডার' যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে। বহুমুখী এই যুদ্ধবিমানটি চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মাণ করেছে পাকিস্তান।
এ পরিপ্রেক্ষিতে একই দিনে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি 'পুরোনো সুরই আবার তুলেছেন' এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'প্রাসঙ্গিক বিষয়ে চীনা দূতাবাস ইতোমধ্যে তার সুস্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আবারও একই পুরোনো সুর তুলেছেন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের দিকে আঙুল তুলেছেন এবং সাদা-কালো মিশিয়ে তা উপস্থাপন করেছেন। এ ধরনের মন্তব্য অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।'
বিবৃতিতে দূতাবাস জোর দিয়ে বলেছে, চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। একে বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদান ও পারস্পরিক লাভজনক উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য চীন একটি বিশ্বস্ত অংশীদার। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করেছে, উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনকে এগিয়ে নিয়েছে এবং অঞ্চলের জনগণের সমর্থন পেয়েছে।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক, পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে গড়ে ওঠেনি এবং কোনো বহিরাগত শক্তির প্রভাবে প্রভাবিতও হবে না। এসব সম্পর্কে হস্তক্ষেপ বা বাধা দেওয়ার যে কোনো চেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য।'
সর্বশেষ এই প্রতিক্রিয়া গত মাসের মতোই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ধারাবাহিকতা তুলে ধরছে। গত ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন অঞ্চলে চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং অংশীদার দেশগুলোর সামরিক বাহিনীকে সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একাধিক বিকল্প থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
পরদিন চীন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ওই মন্তব্যকে 'দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন' বলে আখ্যা দেয় এবং বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার পক্ষে সহায়ক পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানায়।
চীন জানায়, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা দুই দেশ ও তাদের জনগণের মধ্যকার বিষয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বা আঙুল তোলার কোনো সুযোগ নেই।
