বগুড়ায় জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপি নেতার চোখে জখম, দৃষ্টি হারানোর খবর শুনে মায়ের মৃত্যু
বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মাসুদ রানা নামের এক বিএনপি নেতার চোখ উপড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে মাসুদ রানা চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন- এমন খবর শুনে তার মা রাবেয়া বেওয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান।
আহত মাসুদ রানা নন্দীগ্রাম থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। সংঘর্ষে মাসুদ রানার ছোট ভাই স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রবিউল ইসলামও গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আটক করেন। একে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে হয়। আবদুল মজিদ আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে জামায়াতের হয়ে কাজ করছেন। গত রাতে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মী নিয়ে তিনি পারশুন গ্রামে এক ভোটারের বাড়িতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে টাকা বিতরণ করতে গিয়েছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি কর্মীরা দুজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশকে খবর দেন। কিন্তু পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেলে শত শত জামায়াত সমর্থক সেখানে পৌঁছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালান। তারা ভাঙচুর করেন এবং মজিদসহ দুইজনকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, 'জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মাসুদকে মারধর করেন, তার একটি চোখ উপড়ে ফেলেন এবং তার ভাইকেও মারধর করেছেন। মাসুদ বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন, তার একটি চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে।'
মোশাররফ বলেন, হামলার পর মাসুদকে তার স্ত্রী সালমা বেগম ও কলেজপড়ুয়া মেয়ে মীম আকতার হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তার ডান চোখ হারানোর কথা জানান। সালমা মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার বৃদ্ধা শাশুড়ি রাবেয়া বেওয়াকে জানান। ছেলের চোখে হারানোর কথা জানার পরপরই রাবেয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান। আজ রাত ৯টার গ্রামের বাড়িতে মাসুদের মায়ের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তোলেন।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের এক ঘণ্টা পর প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল।
তিনি বলেন, গতকাল নন্দীগ্রামে দুটি 'দুঃখজনক' ঘটনা ঘটেছে।'জুলাই যোদ্ধা' আসাদুল্লাহ আল গালিব ও আমাদের কর্মী ফারুকসহ কয়েকজনের ওপর হামলা এবং আমাদের লোকজনদের আটকে রাখা।
ফয়সালের দাবি, গণভোট প্রচার শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি কর্মীরা গালিবের ওপর হামলা করেন। এছাড়া ফারুকসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালান বিএনপি নেতা মাসুদ রানা ও তার ভাই রবিউল ইসলাম। আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিএনপি নেতার একটি বাড়িতে নিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহাদত হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থালে যাওয়ার আগেই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়েছে।
জানতে চাইলে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মঞ্জুর এ মুর্শেদ বলেন, 'মাসুদ রানার চোখে গুরুতর আঘাত রয়েছে। আরও কয়েকজন ভর্তি রয়েছেন।
