দায়িত্ব পালনে নিজেকে ‘৭০ নম্বর’ দিলেন অর্থ উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনে নিজের পারফরম্যান্সকে ১০০ নম্বরের মধ্যে '৭০ বা তার কাছাকাছি' নম্বর দিয়েছেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, 'আমি ৭০ বা এর কাছাকাছি দেব। কারণ আমি বাস্তববাদী। আমি আমার ড্রাম কম বাজাই। বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের অনেক কাজ করার ইচ্ছে ছিল, সেইগুলো আমরা করতে পারিনি।'
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের অসমাপ্ত কাজ ও সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'দ্বিতীয়ত যেগুলো করেছি, তার অনেকই একেবারে শেষ করে দিয়ে যেতে পারিনি। ফলে ১০০ মার্ক কেন দেব আমাকে। ৭০ বা ৮০ হলে সেটা ঠিক আছে। আমরা যেগুলো শুরু করেছি সেগুলো জনগণের স্বার্থের জন্য। আমাদের কোনো এজেন্ডা ছিল না।'
পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, 'মেইন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বাণিজ্য ও শিল্পকে আরও অ্যাকটিভ করা। ব্যবসা বাণিজ্য গতিশীল না হলে এমপ্লয়মেন্ট আসবে না। এমপ্লয়মেন্ট না আসলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানো কঠিন হবে। বাংলাদেশের শিল্প খাত এখনও বেশ দূর্বল। রপ্তানি খাতের ওপর অনেক নির্ভরতা রয়েছে। বাংলাদেশের বেশির শিল্প ছোট বা মাঝারি। আমাদের বড় শিল্পের দিকে যেতে হবে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণও চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতি শুধু মনিটারি পলিসি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, এর সাথে বহুমাত্রিক বিষয় রয়েছে।'
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এরপরেই রয়েছে ব্যাংকিং সেক্টর। বর্তমান সরকার এ খাত রিঅরগানাইজ করেছে। কিন্তু সমস্যা এত বেশি যে কঠিন কিছু কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। বর্তমান গভর্নর ধাপে ধাপে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, কিন্তু সেটা যথেষ্ট না। এখন ঋণ সরবরাহ কম, মানুষের আস্থা ফিরছে, তবে আরও দরকার। ক্যাপিটাল মার্কেটেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপ না করে ব্যাংকের ওপর নির্ভর করা হয়, তাহলে ব্যবসা বাণিজ্য হবে না। সব দেশে কিন্তু ইকুইটি পার্টিসিপেশন শেয়ার মার্কেট থেকে হয়।'
খাতভিত্তিক অন্যান্য চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, 'ইনস্যুরেন্সটা আরেকটা চ্যালেঞ্জ। এছাড়া জ্বালানি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একটা মাস্টারপ্লান করা হয়েছে। সোলার এনার্জি ডেভেলপ করতে না পারলে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে।'
পাচার করা অর্থ উদ্ধার প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, 'কিছু পাচারের তথ্য চিহ্নিত করা গেছে। কিন্তু উদ্ধার বেশ কঠিন। এই অর্থ উদ্ধারে নিজেদের কিছু অ্যাকশন নিতে হবে। কারণ অন্য দেশের সাথে যোগাযোগ করলে তারা প্রথমেই জানতে চায় যে তোমরা কি করেছো। এছাড়া মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স থেকে অর্থ উদ্ধার খুব কমপ্লিকেটেড। আর যারা পাচার করেছে তারাও খুব দক্ষ লোক দিয়েই করেছে। এরপরও আইডেন্টিফাই করা গেছে যে কারা কারা করেছে এবং কোন কোন দেশে করেছে।'
এ বিষয়ে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, 'বিদেশে বাংলাদেশিদের যেসব অর্থের তথ্য পাওয়া গেছে, তার সবটা পাচার নয়, অনেকে বৈধভাবে টাকা নিয়েছেন। এর চেয়ে বড় ব্যাপার বাংলাদেশের বহু লোকের বিদেশি পাসপোর্ট আছে, বহু দেশের। এগুলোর এখন তথ্য আছে কোন দেশে কারা আছে কতটা আইডেন্টিফাই করা হয়েছে।'
পরবর্তী সরকারের প্রতি পরামর্শ দিতে গিয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'যে কাজগুলো করা হয়েছে, সেগুলো সুসংহত করতে হবে। নতুন চাকা আবিস্কারের দরকার নেই। দ্বিতীয়ত হল পরবর্তী সরকারকে সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করতে হবে। এখানে সমন্বয়ের অভাব আছে।'
