বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন: গভর্নরকে লেখা চিঠিতে কী বলেছেন অর্থ উপদেষ্টা?
বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন চেয়ে 'বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২' সংশোধনের প্রস্তাব আপাতত নাকচ করে দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ সংক্রান্ত খসড়া অধ্যাদেশটি অনুমোদন না করে কিছু পর্যবেক্ষণসহ তা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে ফেরত পাঠিয়েছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গভর্নরকে পাঠানো এক চিঠিতে অর্থ উপদেষ্টা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের মৌলিক আইনে ব্যাপক সংশোধনী আনা বাস্তবসম্মত হবে না। বরং পরবর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এ আদেশটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া অধিকতর যুক্তিযুক্ত হবে।
গভর্নরকে লেখা অর্থ উপদেষ্টার চিঠিটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো:
শুভেচ্ছা নিবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও সুশাসন কাঠামো আরও জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ সংশোধন বিষয়ে আপনার সাম্প্রতিক পত্রের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা এবং এর নীতিগত স্বাধীনতা সুসংহত করার লক্ষ্যে আপনার নিরন্তর প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
আপনার প্রস্তাবিত বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এর সংশোধনীর বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে শীর্ষ পদসমূহে নিয়োগ ও অপসারণ, গভর্নরের পদমর্যাদা বৃদ্ধি, বোর্ড কাঠামোর পরিবর্তন ও প্রজাতন্ত্রের আর্থিক দায় সৃষ্টির স্বাধীনতা, স্বার্থের সংঘাত প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ যেহেতু দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থার একটি মৌলিক আইন, সেহেতু এ আইনে কোনো সংশোধন আনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত সংশোধনীসমূহের যৌক্তিকতা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এজন্য সংশোধনীসমূহের বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা করা সমীচীন হবে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এর মতো একটি মৌলিক আইনে ব্যাপক সংশোধনী আনয়ন বাস্তবসম্মত হবে না। পরবর্তী সরকার দায়িত্বভার গ্রহণের পর ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এ আদেশটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত হবে।
আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
