অন্তর্বর্তী সরকার ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি’ পেয়েছিল, সেটিকে স্ট্যাবিলাইজ করে গ্রোথ প্ল্যাটফর্মে ফেরানো হয়েছে: প্রেস সচিব
অন্তর্বর্তী সরকার 'ভঙ্গুর অর্থনীতি' পেয়েছিল, সেটিকে স্ট্যাবিলাইজ করে গ্রোথ প্ল্যাটফর্মে ফেরানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, ''গত ১৮ মাসে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজনসহ অন্তর্বর্তী সরকার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে। এই ১৮ মাসে সরকার কী করেছে তার চূড়ান্ত মূল্যায়ন করবে বাংলাদেশের মানুষ। তবে অন্তর্বর্তী সরকার একটি 'অত্যন্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি' পেয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতিকে স্ট্যাবিলাইজ করে আবার গ্রোথ প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।''
উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠক শেষে আজ (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, ''সরকারের এই মেয়াদে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল ছিল। অন্যান্য দেশের মতো হঠাৎ করে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া বা স্থানীয় মুদ্রার বড় অবমূল্যায়ন বাংলাদেশে হয়নি। এই সময়ে রেমিট্যান্স রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।''
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ''ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও ডাকাতি হয়েছিল। সেখান থেকে খাতটিকে আবার শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।''
খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ দিয়ে প্রেস সেক্রেটারি বলেন, ''২০২৪ সালের নভেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি যেখানে প্রায় ১৪ শতাংশে পৌঁছেছিল, সেটিকে কমিয়ে প্রায় ৭ শতাংশে আনা হয়েছে।''
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ''অপরাধের পরিসংখ্যানই সরকারের সাফল্যের প্রমাণ। গত বছরের তুলনায় অপরাধ কমেছে এটা ফিগার দেখলেই পরিষ্কার। এই সময় দেশে গুম পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে না। আমাদের সময়ে একটিও এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং হয়নি।''
প্রেস সেক্রেটারি বলেন, ''অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ছিল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য দেশকে প্রস্তুত করা। সেই লক্ষ্যেই জুলাই চার্টার প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই চার্টার নিয়ে রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ তাদের ভার্ডিক্ট জানাবে।''
তিনি আরও বলেন, ''দেশে একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে। সংস্কৃতি আগে কয়েকজনের হাতে কুক্ষিগত ছিল। সেখানে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।''
প্রেস সেক্রেটারি বলেন, ''সরকারের কাজের তালিকা আরও দীর্ঘ। তবে এসব উদ্যোগের সফলতা বা ব্যর্থতার চূড়ান্ত রায় দেবে জনগণ।''
