অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি: সায়েদুর রহমান
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেছেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল সায়েন্স-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আজ শুক্রবার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে তিনি এ কথা বলেন।
ড. সায়েদুর রহমান বলেন, 'অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন করা হয়েছে' শিরোনামে আজ সায়েন্সের সংবাদটি প্রকাশ হয়েছে। সেটার দিকে আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। প্রথমেই বলা দরকার যে সায়েন্স-এ আমার বক্তব্য খণ্ডিত আকারে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও আমি লিখিতভাবে খণ্ডিত অংশ প্রকাশ হয়েছে। এর ফলে ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথমেই স্পষ্ট করা দরকার যে ইপিআইয়ের নিয়মিত কর্মসূচির হামের টিকা সম্পূর্ণ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে কেনা হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা দরকার, সরকার ইপিআইয়ের ৪টি টিকার সম্পূর্ণ অর্থ এবং অন্য টিকাগুলোর ক্ষেত্রে জিএভিআইয়ের পাশাপাশি আংশিক মূল্য পরিশোধ করে থাকে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ক্রয় করার ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৬ অনুসরন করার বাধ্যবাধকতা আছে এবং সে অনুযায়ী এ ধরনের ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অথবা উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করার নিয়ম আছে।
ড. সায়েদুর বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইপিআইয়ের জন্য টিকা ক্রয়ের অনুমতির অনুরোধ উপস্থাপনের পরিপ্রেক্ষিতে "অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি" পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৬ এর ৬৮(১) উল্লেখ করে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন বা জনস্বার্থে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে টিকা ক্রয়ের অনুমোদন দেয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিকা ক্রয় প্রক্রিয়া শুরুর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পূর্ববর্তী বছরের অনুমোদনের সময়ে পর্যবেক্ষণ এবং আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসরণের উল্লেখ থাকায় অনুরোধ জানানোর আগে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।
যেহেতু ইপিআই একটি নিয়মিত জাতীয় কর্মসূচি, এটি প্রতি বছর জরুরি ধারা ব্যবহার করে চালানো ঠিক নয় বিবেচনায় টিকার আন্তর্জাতিক বাজার অনানুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করে রাষ্ট্রীয় অর্থ সংস্থানের প্রাথমিক সম্ভাবনা দেখা যায়।
এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি কর্মসূচির জন্যে প্রয়োজনীয় টিকা ক্রয়ে পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠে সরকারের নিজস্ব সামর্থ্য অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
এ অবস্থায় প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে টিকা ক্রয়ের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে টিকা ক্রয়ের নিজস্ব সামর্থ্য অর্জন প্রয়োজনীয় বলেই সরকারের কাছে প্রতীয়মান হয়। কিন্তু যেহেতু অন্তবর্তীকালীন সরকারের হাতে যথেষ্ট সময় ছিল না। সে কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্তত সরকারি বরাদ্দের অর্ধেক অর্থাৎ ৪১৯ কোটি টাকা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় "অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি"র কাছে টিকা ক্রয়ের চলমান প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে ক্রয়ের অনুমতির জন্য অনুরোধ করে এবং কমিটি সে অনুযায়ী অনুমতিও দেয়।
এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ্য যে সরকারের রাজস্বখাতের বরাদ্দকৃত টাকার বাইরেও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) থেকে কোভিড টিকার জন্য ঋণের অর্থ পুনরায় ব্যবহারের অনুমতির মাধ্যমে প্রাপ্ত ৬০৯ কোটি টাকার ক্ষেত্রেও সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয়ের জন্য ক্রয়কারীকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হয়।
অতএব অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে টিকা ক্রয় পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি এবং কোনো পরিবর্তিত পদ্ধতিতে ইপিআইয়ের কোনো টিকা ক্রয় করা হয়নি। সরকারের টিকা ক্রয় প্রক্রিয়া পরিবর্তন বা বন্ধ করার বিষয়ে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে যা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। তবে আমাদের উদ্বেগ ছিল এই বিশেষ নিয়ম দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বা পক্ষপাতের ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই ভবিষ্যতে ইপিআইয়ের টিকা কেনা নিয়মিত ক্রয়ের জন্য উপযুক্ত, আইনসিদ্ধ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে করা উচিত।
আবারেও স্পষ্ট উল্লেখ করতে চাই যে ইপিআইয়ের কোনো টিকাই এখন পর্যন্ত উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে কেনা হয়নি। শুধু প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে রাষ্ট্রীয় অর্থের স্বচ্ছ ও যথাযথ ব্যবহারের ন্যায্য পদ্ধতি হিসেবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বা লং টার্ম এগ্রিমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করাই এ ধরনের নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদী ক্রয়ের জন্য পরবর্তীতে উপযুক্ত হবে বলে অন্তবর্তী সরকারের সময়ে অভ্যন্তরীণ পরামর্শ আকারে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরুও করা হয়নি।
