Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Monday
May 04, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
MONDAY, MAY 04, 2026
আমরা কি ক্রমশ ‘ভয়ংকর স্বাভাবিকতা’র দিকে যাচ্ছি? 

মতামত

শাহানা হুদা রঞ্জনা
30 April, 2026, 12:35 pm
Last modified: 30 April, 2026, 12:38 pm

Related News

  • ঢাকা মেট্রোর নির্মাণ ব্যয় বেশি কেন: প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নগর বাস্তবতার বিশ্লেষণ 
  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দিতে নির্দেশ
  • ‘বিদ্বেষ’ একটি ‘সেল্ফ রিইনফোর্সিং চক্র’: এ থেকে বের হতেই হবে
  • কেন আমরা স্বীয় জিহ্বা শাসনে রাখতে পরি না? 
  • কেন সুশীল সমাজ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা আছে? 

আমরা কি ক্রমশ ‘ভয়ংকর স্বাভাবিকতা’র দিকে যাচ্ছি? 

দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি নানা ধরনের চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্যে দিয়ে গেছে, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এভাবে ভেঙে পড়েনি কখনো। ২০২৪ সালে এসে পুরো দৃশ্যপট অন্যরকম হয়ে গেল। এখন আবার আমাদের বলতে হচ্ছে ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’।
শাহানা হুদা রঞ্জনা
30 April, 2026, 12:35 pm
Last modified: 30 April, 2026, 12:38 pm
শাহানা হুদা রঞ্জনা। স্কেচ: টিবিএস

শুনেছি প্রয়াত সাংবাদিক নির্মল সেন ১৯৭৩ সালে 'স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই' শিরোনামে লিখেছিলেন, "আমি চাই না যে আমাকে পিটিয়ে হত্যা করা হোক। আমি চাই না আমার সে বিকৃত দেহটা দেখে কাঁদুক আমার স্বজন। অশ্রুর প্লাবন নামুক আমার আপনজনের চোখে। আমি চাই না আততায়ীর গুলি বিদ্ধ করুক আমাকে এক অসতর্ক মুহূর্তে। আমি চাই না যে আমার শুভাকাঙ্খিরা একদিন থানা-পুলিশ করুক আমার জন্য। আমি চাই না নিরুদ্দেশ তালিকায় ভীড় জমাতে।"

অপ্রিয় হলেও সত্যি এর ৫১ বছর পর অর্থাৎ ২০২৪-এ এসে আবার আমরা একই পরিস্থিতির দেখা পেলাম। ১৯৭৩ সালে ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে নতুন সরকার, দেশ পুনর্গঠনের সময়, দুর্বল অর্থনীতি, দুর্বল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নৈরাজ্য, লোভী মানুষের আস্ফালন, অনেকের হাতে অস্ত্র এবং বড় ধরণের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। 

এরপরে অনেকগুলো বছর পার হয়ে গেছে মোটামুটি স্থিতিশীল অর্থনীতির মধ্য দিয়ে। তবে রাজনীতিতে অনেক ওলট-পালট হয়েছে, ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সরকার পরিবর্তন, সামরিক ক্যু, এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাও হয়েছে। 

দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি নানা ধরনের চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্যে দিয়ে গেছে, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এভাবে ভেঙে পড়েনি কখনো। ২০২৪ সালে এসে পুরো দৃশ্যপট অন্যরকম হয়ে গেল। এখন আবার আমাদের বলতে হচ্ছে 'স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই'।

হাসিনা সরকারকে হটানোর পর যা যা হওয়ার কথা ছিল, যা কিছু অর্জন করার কথা ছিল—তার কিছুই হয়নি। বিশেষ করে রাজনীতিতে সংস্কার করার যে ওয়াদা করেছিল অন্তবর্তী সরকার, তাও হয়নি। বরং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নৈরাজ্যকর হয়ে দাঁড়াল। 

কারাগারগুলো থেকে দাগী আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী, জঙ্গি সবাই নিজের মতো করে মুক্ত হয়ে গেল। অনেকে থানার অস্ত্র নিয়েই বের হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অনেক বেশি উদ্ধত ও লাগামহীন হয়ে উঠলো। স্বাধীনতাকে স্বেচ্ছারিতার পর্যায়ে নিয়ে গেলেন কেউ কেউ। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আগ্রাসী তৎপরতা চালানো। 

মাথাচাড়া দিল মব সন্ত্রাস। প্রতিদিন গণপিটুনিতে মানুষ মারা যেতে থাকলো। ২০২৪ এ গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ১২৮ জন, ২০২৫ এ ১৯৮ জন এবং ২০২৬ এর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৪৩ জন। (আইন ও সালিশ কেন্দ্র)

এছাড়া এই সময়ে বেড়েছে হত্যা, নৃশংসতা, রাহাজানি, ছিনতাই, পুড়িয়ে মারা, দোকানপাট-প্রতিষ্ঠান ও ঘরে আগুন দেওয়া, মাজার-আখড়া ভেঙে দেওয়া, সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারী অবমাননা, ধর্ষণ, শিক্ষককে অসম্মান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পন্ড করার মতো অসংখ্য ঘটনা। 

বেড়েছে পাড়ায়-মহল্লায় কিশোর গ্যাং নামে মাস্তানদের ভয়াবহ তাণ্ডব। ২০২৪ ও ২৫ সালে কী বা কোন ক্ষেত্রে নেতিবাচক ঘটনা ঘটেনি—তা হিসেব করে বলা যাবে না। আর মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু সব গুড়িয়ে মুছে ফেলতে চেয়েছে। 

গত বছরের (২০২৫) ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) বলেছে, গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসে জানুয়ারিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে অজ্ঞাতনামা লাশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারি মাসে ৫৭টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হয়েছে। জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও জটিল, সহিংস ও উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। 

২০২৪/২৫ এর লাগামহীন সন্ত্রাসী কাজকর্ম ২০২৬-এ এসেও থেমে নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে অর্থাৎ প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে ৪৬৪টি হত্যাকাণ্ড এবং ৬৬৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

এতকিছুর পরে যদি বলি দুইবছর ধরে বাংলাদেশের কোথাও কোনো সুসংবাদ নেই, সেটা কি ভুল বলা হবে? 

চারিদিকে যা যা ঘটছে, সেগুলো দেখলে মনখারাপ হয়ে যায়। প্রায় প্রতিদিন সকালে বা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুঃসংবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে আমাদের। প্রতিদিন দেশে কয়েকটা করে খুন হচ্ছে, হচ্ছে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি, বাড়ছে আত্মহত্যা। একটি ঘটনার চাইতে আরেকটি ভয়ঙ্কর। এইসব নৃশংস ঘটনা ভিডিও করে বা ছবি তুলে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। সমাজে বাঁচতে গেলে উটপাখির মতো মুখ লুকিয়ে তো বাঁচা যায় না, মনের চাপও কমানো যায় না। অথচ এই ঘটনাগুলো এতটাই বিভীষিকাময় যে জানলেই অস্থিরবোধ হয়। 

শুধু মানুষ নয়, রাঙামাটিতে সবচেয়ে বয়স্ক হাতিটি যখন মারা গেল, মানুষ ঠিকই মৃত হাতিটির শুর, পা, মাংস সব কেটে কেটে নিয়ে গেল। কয়েকদিন আগে বান্দরবানে একটি শিশু হাতিকে পাথর ছুঁড়ে মেরেছে মানুষ। এছাড়া মেছোবিড়াল, কুকুর, বিড়াল, পাখি, শিয়াল কেউ বাদ যাচ্ছে না মানুষের নিষ্ঠুরতার হাত থেকে। কীভাবে মানুষ এতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলো?

খারাপ খবর দেখে দেখে কি খারাপেই অভ্যস্ত হয়ে উঠছে মানুষ? ধীরে ধীরে কি এক ধরনের অভ্যস্ততাও তৈরি হচ্ছে নিজেদের অজান্তে? নয়তো অপরাধের খবরগুলোই সবচেয়ে বেশি পড়ছে কেন মানুষ? খুন, মরদেহ টুকরা, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যার মতো ভয়ঙ্কর অপরাধগুলো কি সয়ে যাচ্ছে? 

মনোবিজ্ঞানী ও অপরাধবিজ্ঞানীরা বলছেন, চলমান অপরাধ আমাদের মধ্যে এক ধরনের নেগেটিভ সহ্য ক্ষমতা তৈরি করেছে, যার প্রভাব খুবই খারাপ। অপরাধপ্রবণতায় যে অতিরিক্ত হিংস্রতা যুক্ত হয়েছে, তাতে অপরাধীদের আচরণে মানসিক বিকৃতির লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। হিংস্রতাপূর্ণ অপরাধ বারবার ঘটার কারণে সামাজিক সংবেদনশীলতা কমে যাচ্ছে, সমাজ নির্বিকার হয়ে পড়ছে ও ব্যক্তির মধ্যে স্বার্থপরতা বাড়ছে। ব্যক্তি শুধুই নিজের ও স্বজনের নিরাপত্তার কথা ভাবছে, যা কোনোভাবেই সুস্থ স্বাভাবিক সমাজের লক্ষণ নয়।

অপরাধ আগেও ছিল, মানুষ ও প্রাণীজগতের প্রতি মানুষের নির্দয় আচরণও ছিল, কিন্তু গত দুইবছরে এর পরিধি ও বীভৎসতা এত বাড়লো কেন? এর উত্তর পেতে হলে সুনির্দিষ্টভাবে ঠিক এই সময়ে দেশের রাজনীতি, সমাজ, ক্ষমতার পট পরিবর্তন, শাসকের দুর্বলতা, সাংস্কৃতিক দুর্ভিক্ষ, মাদকের আগ্রাসন, আইন-শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের দুর্বলতা, মব কালচারের উত্থান নিয়ে ভাবতে হবে।  

যখন মানুষ দেখে খুন করার মধ্য দিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা সহজ হয়, তখন সেই খুনির মধ্যে 'অপরাধবোধে'র চাইতে এক ধরনের 'হিরোইজম' কাজ করে। এরা নিজের শক্তি, সাহস, ক্ষমতা, আধিপত্য ও বীভৎসতা দেখিয়ে অন্যদের মনে ভয় ছড়াতে চায়। যেটা আমরা দেখেছি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। এই সময়ে একটা শ্রেণির মানুষ আইনকে নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন, বিচারিক ক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছিলেন, তারাই অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, চারিদিকে নৃশংসতা ছড়িয়েছিলেন। এখনো এর ফল ভোগ করছি আমরা। 

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন দুর্বল হয়ে যায়, তখন বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যায়। যেমন–শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এলে জ্বর, সর্দি-কাশিসহ নানা রোগ-বালাই বাসা বাঁধে। রাষ্ট্রের অবস্থাও একই রকম। রাষ্ট্রের রেজিস্ট্যান্সের ক্ষমতা হচ্ছে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর কাজ এটা।" 

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অপরাধী বিচারের বাইরে বলে একদিকে যেমন মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, অন্যদিকে অপরাধ করেও পার পেয়ে যাবে- এই কারণেও তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।  

আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ দুর্বল হয়ে উঠছে, সামাজিক সম্পর্কগুলো হারিয়ে ফেলছি, বাড়ছে মাদক গ্রহণ। যদি মূল্যবোধ না থাকে, তাহলে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে বা মব প্ররোচিত হয়ে নিকৃষ্টতম অপরাধও করতে পারে, যা এখন আমরা এখন দেখছি। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, সহানুভূতি এবং মানবিকতার পরিবর্তে এক ধরনের সহিংস মনোভাব তৈরি হচ্ছে। তবে এগুলোকে শুধু 'একক ঘটনা' হিসেবে না দেখে, 'একটি প্রবণতা' হিসেবে দেখতে হবে। পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতের অন্ধকার দিক, হতাশা, ঘৃণা, স্বেচ্ছাচারিতা, সহিংসতা মানুষকে নিষ্ঠুরতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। 

"সিগমুন্ড ফ্রয়েড মানব মনের গঠনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনটি নির্দিষ্ট আঙ্গিক চিহ্নিত করেছেন—ইড, ইগো ও সুপার ইগো। ইড মানব মনের প্রথম আঙ্গিক, যা জন্ম থেকেই ব্যক্তিক চাহিদা তৈরি করে। ইগো বহির্জগতের সঙ্গে ইডের সংযোগ স্থাপন করে। অর্থাৎ, ইগো হলো মানব মনের যুক্তিকেন্দ্র। আর সুপার ইগো হলো নীতিজ্ঞানের জায়গা, যা সমাজে প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও মানদণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তির ক্রিয়াকর্মের নৈতিকতাকে বিচার করে থাকে।" 

"অপরাধী যখন সুপার ইগোকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কেবল ইড চরিতার্থের নেশায় মত্ত হয়, তখন সমাজ নির্ধারিত ঠিক-বেঠিকের ধার ধারে না। আর ইগোকে সে কাজে লাগায় ইডের চাহিদা মেটানোর প্রয়াসে, যুক্তির খোলসে আবৃত করে। ইডকে ইন্ধন জোগায় অতীতে অনুভূত কোনো গভীর মনোকষ্ট বা ট্রমা, তীব্র কোনো অবচেতন বাসনা। নির্মমতার সূত্রপাত ঘটে তখনই, যখন মানবমনের তিন নির্দিষ্ট আঙ্গিকের ভারসাম্যে ছেদ পড়ে।" 

"এমন ব্যক্তি 'সাইকোপ্যাথ' বলে চিহ্নিত। যারা সাইকোপ্যাথ তারা অন্যের অমঙ্গল বা কষ্টে সহানুভূতিবোধ করে না, থাকে না অনুতাপ। বরং থাকে অসত্য বলার প্রবণতা, সমাজ-বিচ্ছিন্নতা ও চটকদার হাবভাব। একজন সাইকোপ্যাথ তাই অনুতাপ ও অনুশোচনা ছাড়াই ভয়ানক অপরাধ ঘটাতে পারে।"  (সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনের পুরকৌশল, স্থাপত্য ও পরিবেশ কৌশল অনুষদের অধ্যাপক নাভিদ সালেহ) 

শিশু মনস্বত্ত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অধ্যাপক ডা: হেলাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, "খুব ছোটবেলা থেকেই কোনো শিশুকে যদি বোঝানো হয় জগতে শক্তি প্রয়োগই একমাত্র সম্পদ, তখন তার জ্ঞান বিকাশের জগতে পরিবর্তন ঘটতে থাকে।" 

মানুষের মধ্যে এই হিংস্রতার ব্যাখ্যায় মনোবিজ্ঞানীরা আরো বলেন, একজন মানুষ নিজের হতাশা থেকেই মূলত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। নিজের হতাশা কাটাতে সে বেছে নেয় দুর্বল একজনকে। এই দুর্বলের ওপর হিংস্রতা দেখিয়ে সে এক ধরনের মানসিক আনন্দ লাভ করে ও হিংস্রতার স্বপক্ষে নিজস্ব যুক্তি তৈরি করে। এই তত্ত্বকে বলা হয় 'ফ্রাস্টেশন-অ্যাগ্রেশন-হাইপোথিসিস'। অ্যান্টিসোশ্যাল পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার, সোশিওপ্যাথ, পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার, এবং পারানয়েড ডিসঅর্ডার নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের একটি কারণ হতে পারে। 

সোশিওপ্যাথরা কখনো কখনো, হত্যাকে আত্মহত্যার একটি বিকল্প পদ্ধতি মনে করে, যেখানে অপরাধী নিজের যন্ত্রণা বা মনের ক্ষোভ মেটানোর জন্য অন্যকে মেরে ফেলতে পারে। 

মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা যখন ঘরে-বাইরে সহিংসতার শিকার হন ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তখন তাদের মানসিক বিকাশ ও মানসিক স্বাস্থ্য চরমভাবে বিঘ্নিত হয়। একসময় তারা সহিংসতা বা হত্যাকে স্বাভাবিক বলে মনে করে। বাংলাদেশ কি ক্রমশ সেই 'ভয়ংকর স্বাভাবিকতা'র দিকে যাচ্ছে? এই অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। যেকোনোভাবে সাইকোপ্যাথ মানুষ ও মানসিকতা থেকে আমাদের মুক্ত হতেই হবে। 


লেখক: যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক


বিশেষ দ্রষ্টব্য: নিবন্ধের বিশ্লেষণটি লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন। অবধারিতভাবে তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর অবস্থান বা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                              

 

Related Topics

টপ নিউজ

মতামত / আইনশৃঙ্খলা

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ২০১৯ সালে ইরানে বন্যার দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স
    রাডার ধ্বংসের পরই ইরানে ঝরছে বৃষ্টি? নেপথ্যে কি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ‘আবহাওয়া অস্ত্র’?
  • চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানের চাংশিং দ্বীপে অবস্থিত হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, ১৬ জুলাই ২০১৮। ছবি: চেন আইঝু/রয়টার্স
    ৫ তেল শোধনাগারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আটকে দিল চীন
  • ঢাকার ওপর চাপ কমাতে যাত্রী সেবায় কমিউটার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের
    ঢাকার ওপর চাপ কমাতে যাত্রী সেবায় কমিউটার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের
  • বেক্সিমকোর তিস্তা সৌর-বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সৈয়দ জাকির হোসেন/টিবিএস
    মেগা রাউন্ডের ব্যর্থতার পর এবার ৪৯৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের দরপত্র আহ্বান করল বিপিডিবি
  • দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে এগোচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশ। প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
    সব ধরনের ভিসা দিচ্ছে বাংলাদেশ, আগামী কয়েক সপ্তাহে স্বাভাবিক হতে পারে ভারতীয় ভিসা সেবা
  • প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
    যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার পাল্টা প্রস্তাব ইরানের

Related News

  • ঢাকা মেট্রোর নির্মাণ ব্যয় বেশি কেন: প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নগর বাস্তবতার বিশ্লেষণ 
  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দিতে নির্দেশ
  • ‘বিদ্বেষ’ একটি ‘সেল্ফ রিইনফোর্সিং চক্র’: এ থেকে বের হতেই হবে
  • কেন আমরা স্বীয় জিহ্বা শাসনে রাখতে পরি না? 
  • কেন সুশীল সমাজ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা আছে? 

Most Read

1
২০১৯ সালে ইরানে বন্যার দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

রাডার ধ্বংসের পরই ইরানে ঝরছে বৃষ্টি? নেপথ্যে কি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ‘আবহাওয়া অস্ত্র’?

2
চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানের চাংশিং দ্বীপে অবস্থিত হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, ১৬ জুলাই ২০১৮। ছবি: চেন আইঝু/রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

৫ তেল শোধনাগারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আটকে দিল চীন

3
ঢাকার ওপর চাপ কমাতে যাত্রী সেবায় কমিউটার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের
বাংলাদেশ

ঢাকার ওপর চাপ কমাতে যাত্রী সেবায় কমিউটার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের

4
বেক্সিমকোর তিস্তা সৌর-বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সৈয়দ জাকির হোসেন/টিবিএস
বাংলাদেশ

মেগা রাউন্ডের ব্যর্থতার পর এবার ৪৯৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের দরপত্র আহ্বান করল বিপিডিবি

5
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে এগোচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশ। প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

সব ধরনের ভিসা দিচ্ছে বাংলাদেশ, আগামী কয়েক সপ্তাহে স্বাভাবিক হতে পারে ভারতীয় ভিসা সেবা

6
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার পাল্টা প্রস্তাব ইরানের

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net