কেন আমরা স্বীয় জিহ্বা শাসনে রাখতে পরি না?
আমরা বাংলাদেশিরা কেন যেন সবসময় একটু বেশি কথা বলতে পছন্দ করি। যা বলার দরকার নাই, যতোটুকু না বললেও চলে, তাও আমরা বলে ফেলি। কোন কথার কী প্রভাব হতে পারে, সেই ব্যাপারেও খুব একটা ভাবিনা। আর ভাবলেও পাত্তা দেই না।
বিশেষ করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদানকালে তো ব্যাপক উত্তেজনা ও অস্থিরতা কাজ করে। অথবা অফিশিয়াল কোনো প্রোগ্রামে উচ্চপদস্থ কেউ থাকলে কথার খেই হারিয়ে ফেলি। প্রশংসা করার নামে ব্যক্তি বন্দনা শুরু করি।
সম্ভবত ২০০০ সালের ঘটনা। আমি যে প্রতিষ্ঠানে তখন কাজ করতাম, সেই প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক একটি স্টাফ মিটিং ডাকলেন। ডিজি স্যার খুব ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে সেটার উপরেই আলোচনা হচ্ছিল। সবাই স্যারের প্রশংসা করছিলেন। হঠাৎ করে একজন অফিসার বলে উঠলেন, "স্যার, আপনি এতো ভাল কাজ করেছেন যে মনে হয় আপনাকে মমি করে রাখি। আপনাকে আসলে আমাদের মমি করেই রাখা দরকার।"
তার কথা শুনে সবাই হেসে উঠলেও স্যার বিব্রতবোধ করলেন। কিন্তু কিছু বলতেও পারছিলেন না। কারণ এই অথর্ব ব্যক্তিকে উনি এলাকার কোটায় অফিসার পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
আমাদের চারপাশে এমন অনেকেই আছেন, যারা নেতা-নেত্রী, বা বসকে প্রশংসা করতে করতে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন। সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বিএনপি'র একজন সংসদ সদস্যের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে চারিদিকে বেশ অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার প্রয়াত ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে 'শিশু মুক্তিযোদ্ধা' হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন।
কেন বা কোন মাপকাঠিতে শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট ভাইকে স্বীকৃতি দিতে হবে? মুক্তিযুদ্ধকালে ওনাদের বয়স ছিল যথাক্রমে ৩ ও ২ বছর। যেকোনো মানুষ বুঝতে পারছেন উনি কেন এই অবান্তর দাবি জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি'র কাছে অনুরোধ এ ধরনের অতি উচ্ছ্বাস প্রসঙ্গে পদক্ষেপ নিন। নয়তো দলটি খামোখাই সমালোচনার মুখে পড়বে।
ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাননীয় সংসদ সদস্যের এই বক্তব্য নেতিবাচকভাবে ভাইরাল হয়েছে। অসংযত ভাষা, অতিমাত্রায় প্রশংসা অনেক সময় নিজের জাহাজই ডুবিয়ে দেয়। এর প্রমাণ আমরা অতীতে দেখেছি।
একজন সিনিয়র এমপি কিছুদিন আগে বলে বসলেন, 'শুধু ২০৩১ সাল নয়; ২০৩৭ এবং ২০৪২ সালেও তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ইনশাআল্লাহ' — অবশ্য এমপি'র এমন বক্তব্যের পর তাকে দল থেকেই সতর্ক করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে অবশ্যই এটা ছিল সমায়োচিত ভালো উদ্যোগ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্বাধীনতা দিবসে শ্রদ্ধা জানানোর পর বললেন, "জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে আজ বাংলাদেশ নামক দেশটা সৃষ্টি হতো না।" নেতা/নেত্রীর প্রশংসা করার সময় বা তাদের অবদান নিয়ে কথা বলার সময় সাত-পাঁচ না ভেবেই অনেকে অনেক কথা বলেন। কিন্তু একজন ভিসি কি রাজনৈতিক নেতাদের মতো বক্তব্য দিতে পারেন? নাকি দেওয়া উচিত? মানুষ কীভাবে ওনার বক্তব্যকে গ্রহণ করছে—তা নিয়ে তিনি ভাবছেন না।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে মন্ত্রী মহোদয় ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিতর্কিত, অসংলগ্ন বা বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার ব্যাপারটা নতুন নয়। যখনই কোনো দল ক্ষমতায় বসে, তখনই তাদের কারো কারো মধ্যে, নিজেকে জাহির করার এমন তাগাদা সৃষ্টি হয় যে চট করে কিছু ওয়াদা বা মন্তব্য করে বসেন।
গণমাধ্যমে সেইসব বক্তব্য বা ওয়াদা ভাইরাল হয়, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। মানুষ হাসাহাসি করে এবং সরকার বিব্রতবোধ করে। এরকম অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যাবে। প্রায় প্রতিটি সরকারের পারিষদ দলে এরকম কয়েকজন থাকেন।
পরে হয়তো সেইসব বিতর্কিত ও হাস্যকর উক্তির ব্যাখ্যা দেওয়া হয় বা কখনও দুঃখপ্রকাশ করা হয়। কিন্তু মুখ থেকে বেরিয়ে যাওয়া কথা আর ফেরানো যায় না। আমাদের গুরুজনরা প্রায়ই বলতেন, 'স্বীয় জিহ্বা শাসনে রাখিবে'। বলা হতো বাড়িতে অতিথি এলে তাদের সামনে চটপট করে খেতে শুরু করবে না এবং কারো সামনে মুখ ফসকে উল্টাপাল্টা কথাও বলবে না।
কিন্তু আমাদের রাজনীতির জগতে কোনো কোনো মন্ত্রী মহোদয়, বড় রাজনীতিবিদ ও পদস্থ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ কেন স্বীয় জিহ্বা শাসনে রাখতে পারেন না? এই উল্টাপাল্টা কথা বলার সংস্কৃতি কেন তৈরি হয়?
তৈরি হয় মূলত তেল দেওয়ার জন্য, নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য বা অজ্ঞানতা থেকে। উল্টাপাল্টা বক্তব্য বলতে বোঝানো হচ্ছে, বাস্তব তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কথা। যা ঘটেনি, ঘটবেও না, সেরকম দাবি।
যেমন—সাবেক প্রধান উপদেষ্টা নির্দ্বিধায় বলেছেন, 'উন্নত বিশ্ব জনশক্তি নিতে বাংলাদেশে আসবে, বাংলাদেশ কোথাও যাবে না।' আমরা জানি ওনার এই কথাটা কতটা অর্থহীন ছিল।
এর আগে আমরা শুনেছি 'লুকিং ফর শত্রুজ', 'আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে', 'অভিবাসী শ্রমিকরা সমুদ্রে ডুবে যায়নি, তারা চলে গেছে', 'হরতালকারী ও মৌলবাদীরা ভবনের স্তম্ভ ধরে টানাটানি করায় ভবন ধসে পড়তে পারে', 'ঈদে বাড়ি গেলে ঘরে তালা লাগিয়ে যাবেন', 'পুলিশ জোরে দৌঁড়াতে পারে না বলে অপরাধী ধরতে পারে না' ইত্যাদি ইত্যাদি।
নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর আমরা খুব করে প্রত্যাশা করছি পূর্বের মতো অবান্তর ও হাস্যকর মন্তব্য আর শুনতে হবে না। কিন্তু ইতোমধ্যেই কারো কারো অতিরঞ্জিত বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে এবং সমালোচিতও হচ্ছে।
প্রায় দুই যুগ পরে দেশে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২৩ দিনে (১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল) নিশ্চিত হাম সংক্রমণে ২১ জন এবং সন্দেহভাজন হামে ১২৮ জনসহ মোট ১৪৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চারিদিকে চিকিৎসার জন্য বাবা-মা, স্বজনের হাহাকার চলছে, ঠিক সেরকম একটা সময়ে সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বললেন, "ছোটবেলায় আমারও হাম হয়েছিল, হাম নিয়ে জনগণের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।" আপৎকালীন সময়ে এ ধরনের হালকা বক্তব্য খুবই অনভিপ্রেত।
বাড়তি কথা সবসময় যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বলেন, তা নয়। অনেক সময় কথা বলতে বলতে মুখ ফস্কে বলে ফেলেন। অনেকে আবেগ থেকে, অপ্রস্তুত হয়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে ফেলেন।
বাংলাদেশের প্রধান দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় অনেক সময় বক্তব্য হয়ে ওঠে 'পাল্টা আক্রমণ'কেন্দ্রিক। ফলে যুক্তির চেয়ে মূখ্য হয়ে ওঠে আবেগ ও উত্তেজনা। নিজেদের অর্জন না বলে, অন্য দল কী পারেনি সেই বক্তব্যকে হাইলাইট করা হয়। কিছু মানুষ এই নেতিবাচক প্রচারণা পছন্দ করলেও অধিকাংশ মানুষ বিরক্তবোধ করেন।
কেন এমন অপ্রাসঙ্গিক, অবাস্তব ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদান করতে ভালবাসেন কোনো কোনো মন্ত্রী, নেতা ও উচ্চপদে থাকা ব্যক্তিরা? অনেকে মনে করেন, আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিটাই এখন এমন হয়ে উঠেছে। প্রতিযোগিতার নামে মৌখিক আক্রমণ ও অন্যকে হেয় করা বেড়েছে।
তবে অপ্রিয় হলেও সত্য যে, সবচেয়ে ক্ষতি করছে বর্তমানের মিডিয়াকেন্দ্রিক রাজনীতি। বিশেষ করে টিভি চ্যানেলগুলোর মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা দেখার পরই মন্ত্রী, নেতৃবৃন্দ, উঠতি নেতা, পাতি নেতাদের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তখন তারা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় বক্তব্য দিয়ে ফেলেন।
অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টার নিউজ চালানোর জন্য, সোর্সের মুখ দিয়ে ভাইরাল বাণী বের করানোর জন্য ও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত আকর্ষণীয় হেডলাইন তৈরির জন্য মিডিয়াগুলো খোঁচা দেয় বা অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে। কিছু নেতা মনে করেন চটুল বা চমকপ্রদ বক্তব্য দিলে মিডিয়া কাভারেজ বেশি পাওয়া যায়।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের যিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ছিলেন, তিনি মিডিয়ার সামনে কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই ব্রিফিং দিতেন। দেশে যখন মবতন্ত্রের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল, সেইসময়ও উনি অনায়াসে বলেছেন, দেশে কোনো মব নাই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি যা খুশি তাই বলেছেন এবং হাসাহাসির সম্মুখীন হয়েছেন। যে বিষয়ে ওনার কথা বলার কোনো প্রয়োজন ছিল না, সেইসব বিষয়েও অবলীলায় কথা বলে গেছেন।
মানুষ যখন মনে করেন যে, তার বক্তব্য প্রশ্নাতীত এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে না, তখন সেই ব্যক্তি কথা বলার সময় লাগাম টানতে ভুলে যান। আর এই কারণেই যা মনে আসে, মুখে তাই বলে ফেলেন।
এই অতিকথন থেকে বের হতে হলে নেতা ও মন্ত্রীদের নিয়মিত ব্রিফিং প্র্যাকটিস ও যোগাযোগ দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। কী বলবেন এর একটা আউটলাইন ঠিক করে নিলে এবং অভ্যন্তরীণ পরিসরে আলোচনা করে নিলে, ভুল-ত্রুটিহীন বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হবে।
এখন সংসদ চলছে। সংসদে কার্যকর বিতর্ক দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে। সংসদীয় কমিটি ও প্রশ্নোত্তর পর্বকে সক্রিয় করা গেলে সর্বস্তরে জবাবদিহিতা বাড়বে। অনেক সংসদ সদস্য এইবারই প্রথমবারের মতো সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, কাজেই বক্তব্য দেওয়ার সময় নানাদিক বিবেচনায় রাখতে হবে।
অশ্লীল ভাষার প্রয়োগ, আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদান, বাজে রসিকতা, সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে বক্তব্য দেওয়া, বাড়তি কথা বলা, অতি প্রশংসা করার অভ্যাস ছাড়তে হবে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, "৭১, ৯০ এবং ২৪ তিনটি ট্রফিই বিএনপির ঘরে।" এটা বলে উনি কী বোঝাতে চাইলেন? এককভাবে তার দলের অর্জন, নাকি শুধু বলার জন্যই বলা।
সবসময়ই বলা হয়ে আসছে সংসদ অধিবেশন চালনার ব্যয় অনেক বেশি—প্রতি মিনিটে প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকা। বিশেষ করে আপৎকালীন এই সময়ে এই অর্থ ব্যয় দেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ। এরকম একটি অবস্থায় খুব জরুরি ও জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয় নিয়েই এখানে কথা বলাটা যুক্তিযুক্ত।
একটি পরিণত গণতন্ত্রে নেতৃত্বের শক্তি শুধু ক্ষমতায় নয়, দায়িত্বশীল কথোপকথনের মাধ্যমেও প্রকাশ পায়। তাই প্রশ্নটি শুধু কে কী বললেন, তা নয়; বরং এরমাধ্যমে বোঝা যায় আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন দিকে যাচ্ছে? রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে নাকি সেই 'খেলা হবে' কালচারেই আটকে আছে।
কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতা যখন নিজেকে ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করেন, তখনই তার নিজের বা দলের ঝুঁকিপূর্ণ আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ক্ষমতার অবস্থান বজায় রাখতে নেতারা প্রায়ই বাস্তব সংকটকে ছোট করে দেখতে চেষ্টা করেন, যা আত্মঘাতি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই চিত্র আমরা দেখে আসছি। নেতা/মন্ত্রী/সংসদ সদস্যদের অতিকথন, অতি প্রশংসাসূচক বক্তব্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি ক্ষমতার মনস্তত্ত্ব, দলীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক কাঠামোর সম্মিলিত ফলও বলা যায়।
একজনের ফেসবুকে দেওয়া এই মন্তব্যটি দিয়েই শেষ করতে চাই, 'একটি মঙ্গোলীয় প্রবাদ আছে: ঘণ্টা বাঁধা বাঘ শেষ পর্যন্ত অনাহারে মরবে।' এর অর্থ কী? বাঘ টিকে থাকে নিঃশব্দ চলাচলের মাধ্যমে। তার শক্তি লুকিয়ে থাকার ক্ষমতায়। কিন্তু যদি তার গলায় ঘণ্টা বাঁধা থাকে, তবে প্রতিটি নড়াচড়াতেই তার উপস্থিতি টের পাওয়া যায়, শিকার আগেই সতর্ক হয়ে সরে যায়। নীরবে শিকার করতে না পেরে বাঘ ধীরে ধীরে ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে।
এই প্রবাদটি কেবল প্রাণীজগতের কথা বলে না, এটি মানুষের আচরণ সম্পর্কেও এটি কঠিন এক সত্য তুলে ধরে। যারা নিজেদের খুব বেশি প্রকাশ করেন, অহেতুক আত্মপ্রচার করেন বা অপ্রয়োজনীয়ভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, তারা প্রায়ই নিজেদের সাফল্যের ভিত্তিকেই দুর্বল করে ফেলেন।
লেখক: যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক
বিশেষ দ্রষ্টব্য: নিবন্ধের বিশ্লেষণটি লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন। অবধারিতভাবে তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর অবস্থান বা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।
