বঙ্গভবনের ইমেইল, ভারতীয় ম্যালওয়্যার দিয়ে শীর্ষ নেতাদের এক্স অ্যাকাউন্ট 'হ্যাক' করা হয়েছে; অভিযোগ জামায়াতের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে, দলের আমির ও সেক্রেটারি জেনারেলসহ শীর্ষ নেতাদের এক্স অ্যাকাউন্ট ভারত থেকে উদ্ভূত একটি ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে হ্যাক করা হয়েছে। দলটির দাবি, বঙ্গভবন ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) সঙ্গে যুক্ত অফিশিয়াল ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে এই সাইবার হামলা চালানো হয়।
গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দলের জাতীয় প্রচার দলের সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য সিরাজুল ইসলাম 'দলের নেতৃত্বের ওপর সমন্বিত সাইবার হামলা'র বিষয়ে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন।
তারা জানান, গত ৩১ জানুয়ারি দলের আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টে একই ধরনের ঘটনার পর গত রাতে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এক্স অ্যাকাউন্টও 'হ্যাক' করা হয়েছে।
আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাকের প্রসঙ্গ তুলে ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, 'রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একটি ইমেইল থেকে এই ম্যালওয়্যারটি পাঠানো হয়েছিল বলে আমরা শনাক্ত করেছি।'
সিরাজুল ইসলাম বলেন, দলটি একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা করেছে, যা 'গভীর ফরেনসিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনের' ভিত্তিতে করা হয়েছে। তার দাবি, বঙ্গভবনের এক সহকারী প্রোগ্রামারের অফিশিয়াল ইমেইল ঠিকানা assistant.programmer@bangabhaban.gov.bd ব্যবহার করে ম্যালওয়্যারটি সিস্টেমে প্রবেশ করানো হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই সাইবার হামলায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের একটি সার্ভার ব্যবহার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে bcc.gov.bd ডোমেইনের কথা উল্লেখ করেন।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'ম্যালওয়্যারটির উৎপত্তি ভারতে। সেখান থেকেই এটি ছাড়া হয়েছে এবং পরে আমাদের ডিভাইসগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে বঙ্গভবনের ইমেইল সিস্টেমের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।'
এই সাইবার হামলাকে দেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন সাইফুদ্দিন খালেদ। তিনি বলেন, 'আমরা মনে করি, ভারত থেকে আসা এই ম্যালওয়্যার বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর একটি আক্রমণ। এটি সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করছে।'
এ সময় জামায়াত নেতাদের ব্যবহৃত একাধিক ডিভাইসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত বা হ্যাক হয়ে থাকতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সাইফুদ্দিন খালেদ জানান, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা রাষ্ট্রপতির সচিবকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছিলাম। তবে এখন পর্যন্ত সরকার, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বা পুলিশের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি।'
হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টগুলো থেকে দেওয়া পোস্টের বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে হ্যাকাররা 'অনাকাঙ্ক্ষিত' ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রকাশ করেছিল। তিনি জানান, হ্যাকের বিষয়টি শনাক্ত করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পোস্টগুলো মুছে ফেলা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীরা জামায়াতের বিরুদ্ধে 'অপপ্রচার' চালানোর অংশ হিসেবে ওই হ্যাক করা পোস্টগুলোর স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আদর্শ দিয়ে আমাদের মোকাবিলা করুন। চোরের মতো এমন হামলার পথ বেছে নেবেন না।' তিনি আরও বলেন, ভোটাররা এখন 'ইতিবাচক ও গঠনমূলক রাজনীতি' প্রত্যাশা করে।
সংবাদ সম্মেলনে সাইফুদ্দিন খালেদ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে 'পলিসি ডিবেট' বা নীতিগত বিতর্কে অংশ নেওয়ার জন্য জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক আহ্বানের বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করেন।
গণমাধ্যমকে এ ধরনের বিতর্ক আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থীদের মধ্যে নীতিগত বিতর্ক ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।'
