জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে স্বীকার করেছে বিরোধী দল: আইনমন্ত্রী
জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে বিরোধী দল এটা স্বীকার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, ''জাতীয় সংসদে 'জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২৬'-এর অনুমোদনের মাধ্যমে বিরোধী দল স্বীকার করেছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসর তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজাম ইসলামী এবং আল বদর, আলশামস বাহিনী ও রাজাকাররা এ দেশের স্বাধীনতার ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল।''
আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এসময় আইনমন্ত্রী বলেন, ''এই মহান সংসদে আমি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধীদলের সব সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ 'জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২৬' এ বীর মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই সংশোধনীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের যে সমস্ত দামাল ছেলেরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসর তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, তৎকালীন নেজাম ইসলামী এবং আল বদর, আল শামস বাহিনী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছিলেন; তাদেরকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস হয়েছে। জামায়াতে ইসলাম সে আইনের বিরোধিতা করেনি।''
তিনি বলেন, ''সে আইনে এনসিপির পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অনুসমর্থন জানানো হয়েছে, এই কারণে তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।''
আসাদুজ্জামান বলেন, ''বাই অপারেশন অব ল অ্যান্ড ইন্টারপ্রিটেশন অনুযায়ী, তাহলে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কারা বিরোধিতা করেছিলেন; কারা খুন-গুম-ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, কারা বাংলাদেশের অগণিত মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তা পরিষ্কার হয়েছে।''
তিনি বলেন, ''আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে আমরা নির্যাতিতের পক্ষে ছিলাম। এই বাংলাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। একভাগে ছিল ফ্যাসিস্টরা, গুটি কয়েক লুটেরা, গুটি কয়েক খুনি, আরেকদিকে ছিলাম উনারা ও আমরা।''
আইনমন্ত্রী বলেন, ''এই বাংলাদেশের যা কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন, তার সবকিছুর সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তার পরিবার জড়িত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, এই সংসদ আগামী দিনে এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যে বাংলাদেশ ৭১' এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্য দিয়ে অর্জিত, এই বাংলাদেশে ৯০' এর গণভুত্থান এবং ২৪' এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।''
তিনি বলেন, ''বিশ্বের দেশে দেশে বিপ্লব ঘটেছে। ফরাসি বিপ্লব ঘটেছে, জুলাই বসন্ত এসেছে, আরব বসন্ত এসেছে, অরেঞ্জ বসন্ত এসেছে। সব বসন্তের পরেই সে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। সেই সমঝোতার ভিত্তি হয় গণঅভ্যুত্থান ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা।''
তিনি আরও বলেন, 'কিন্তু আমরা অত্যন্ত দুঃখের ও পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, বিরোধী দল সে বিষয়ে আগ্রহী নয়।'
গণভোট আধা প্রেম, আধা প্রতারণা
আইনমন্ত্রী বলেন, ''গতকাল (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে একটি লিফলেট পেলাম। ১১ দলীয় জোটের সেই লিফলেটে উনারা কেন সংস্কার চান, সে বিষয়ে কয়েকটি পয়েন্ট দিয়েছেন। এই পয়েন্টের মধ্যে কোথাও জুলাই সনদের কথা বলা নাই।''
তিনি বলেন, ''এতে তারা গণভোটের কথা বলেছেন। এতে জুলাই সনদ থেকে গণভোটকে ডেভিয়েট করা হয়েছে। দ্যাট ইজ আ ফ্রড অন দ্য কনস্টিটিউশন, অ্যান্ড দ্যাট ইজ আ ফ্রড অন দ্য ল। আমরা জিজ্ঞেস করেছি জুলাই জাতীয় সনদের কথা কোথায়? যাতে ৩৩ টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিলেন। এর কোথাও তার নাম-চিহ্ন নাই।'''
তিনি আরও বলেন, ''জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদের কোনো শব্দ উনাদের [বিরোধী দলের] সুপারিশের মধ্যে নাই। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক।''
আসাদুজ্জামান বলেন, ''এ প্রসঙ্গে ফিলিস্তিনি জাতীয় কবি মাহমুদ দারবিশের একটি কবিতার কথা মনে পড়ে। মাহমুদ দারবিশের প্রেমিকা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন- মাহমুদ আমাদের দেখা হবে কবে? উনি বলেছিলেন যেদিন যুদ্ধ থামবে। প্রেমিকা জিজ্ঞাসা করলেন যুদ্ধ কবে থামবে? উনি বললেন যেদিন আমাদের দেখা হবে।''
তিনি বলেন, ''গণভোটের তিনটি প্রশ্নের ব্যাপারে বিএনপির কোনো আপত্তি কখনো ছিল না। বাকি যে প্রশ্নটা, তার আধা প্রশ্নটা হলো- আধা প্রেম আধা প্রতারণা। আধা প্রেম কী রকম? এটা জুলাই সনদের অংশ। আধা প্রতারণা হলো জুলাই সনদের মধ্যে বলা আছে, ওই প্রশ্নটা কখনোই প্রাসঙ্গিক হবে না বিএনপির জন্য, এপ্লিকেবল হবে না বিএনপির জন্য। কারণ বিএনপি তার নোট অব ডিসেন্টে ওই প্রশ্নের বিষয়টি পরিস্কার করেছে।''
আইনমন্ত্রী বলেন, ''নির্বাচনের মাঠে যখন মা- বোনের কাছে ভোট চাইতে গেছি, তখন শুনেছি কেউ কেউ নাকি বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছেন।''
তিনি বলেন, ''উনাদের বলার কথা ছিল ফ্যামিলি কার্ডের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, কোনো দলীয়করণ হচ্ছে কি না, কোনো দুর্নীতি হচ্ছে কি না? সে মর্মে কোনো আলোচনা নাই। কৃষকদের ভাগ্য নিয়ে কোনো আলোচনা নাই। ইমামদের জন্য ভাতা চালু করা হয়েছে, সেই মর্মেও কোনো আলোচনা নাই।''
আইনমন্ত্রী বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ''আসুন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশ গড়ি। আপনারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা বলেছেন, খালেদা জিয়ার কথা বলেছেন, আসুন সেই স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে হেঁটে চলি।''
