রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দরে দুদকের অভিযান
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমদানিকারকরা ইচ্ছাকৃতভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য খালাসে দেরি করছে—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে (সিপিএ) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম।
অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে পণ্যের সরবরাহে কারসাজি করার উদ্দেশ্যে আমদানিকৃত পণ্য বন্দরে খালাস না করে নদী ও সাগরে লাইটার জাহাজে দীর্ঘ সময় রেখে সেগুলোকে 'ভাসমান গুদাম' হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযান চলাকালে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম বন্দর চেয়ারম্যানের দপ্তরে যায় এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন নথিপত্র ও রেকর্ড পর্যালোচনা করে।
দুদকের ভাষ্যমতে, পবিত্র রমজান মাসে যখন খাদ্যপণ্যের চাহিদা সাধারণত বেড়ে যায়, তখন নিত্যপণ্যের খালাস ও পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলে তা বাজারের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই এই অভিযান চালানো হয়।
এনফোর্সমেন্ট টিম নৌপরিবহন অধিদপ্তরের জারি করা একটি নির্দেশনা প্রতিপালনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখে। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বন্দর চেয়ারম্যানকে একটি দাপ্তরিক চিঠি (স্মারক নম্বর-৭১৩) পাঠান। এতে বলা হয়, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) ছাড়া কোনো লোকাল এজেন্ট বা কার্গো এজেন্টকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে কাজ করার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
লোকাল এজেন্ট ও কার্গো এজেন্টদের একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় এনে সমুদ্রবন্দর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল নিশ্চিত করাই ছিল ওই নির্দেশনার লক্ষ্য।
তবে, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পরে নিশ্চিত করেছেন যে, ওই নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ অধিদপ্তর থেকে এনওসি গ্রহণ করছে না।
তদন্তের অংশ হিসেবে, নির্দেশনা জারির পর যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিরূপণে দুদকের টিম বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার (অপারেশন), হারবার মাস্টার এবং ডেপুটি কনজারভেটর দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করে।
মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) থেকে উপকূলে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত লাইটারেজ জাহাজগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে অস্পষ্টতার অভিযোগ বিষয়েও এনফোর্সমেন্ট টিম দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।
তদারকিতে ঘাটতির কারণে নিত্যপণ্যবোঝাই লাইটার জাহাজগুলো দীর্ঘ সময় নোঙর করে রাখার সুযোগ পাচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে দুদক কর্মকর্তারা বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের আলোকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
সংগৃহীত নথিপত্র ও বক্তব্য পর্যালোচনার পর এনফোর্সমেন্ট টিম জানিয়েছে, তারা অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখবে এবং দ্রুততম সময়ে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
দুদক জানায়, তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
