অতীতের ভুলের জন্য গণহারে শাস্তি নয়; তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির
ক্ষমা ও ন্যায়বিচারকে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতের সব ভুলের জন্য গণহারে শাস্তি নয়; তবে খুন, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, 'আমরা সুযোগ দেব। সবাইকে শাস্তি দিলে লোক পাওয়া যাবে না । লোক বাছতে কম্বল শেষ হয়ে যাবে। অতীতের অনেক কিছু নিয়ে আমরা পারব না। কিন্তু কিছু বিষয় আমরা ছাড়তে পারব না। আমরা ছাড়তে পারব না আবু সাঈদের হত্যাকারীকে, আমরা ছাড়তে পারব না আবরার ফাহাদের যারা হত্যাকারী, তাদের শাস্তি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য কোনো ছাড় নাই। শহীদ উসমান হাদির হত্যাকারীর জন্য কোনো মায়া নাই, দয়া নাই, ছাড় নাই।'
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, 'জনগণকে কেউ যেন বোকা না মনে করে। একটা পক্ষ এখন গুজব রটাচ্ছে, অতীতে যেসব কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে... জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দল ক্ষমতায় আসলে তাদের সবাইকে বাদ দিয়ে দেবে।'
তিনি বলেন, 'নতুন বাংলাদেশকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা পিছনের দিকে তাকাব না, আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। সেদিন থেকে আমরা সবার কাছে সততা আশা করব, স্বচ্ছতা আশা করব, দায়িত্বশীলতা আশা করব। আমাদের অঙ্গীকার ইনসাফ কায়েম করা।'
শফিকুর রহমান বলেন, 'আমরা চাই না সরকারের কোনো অফিস কোনো দলের ঠিকানা হোক । সরকারের অথবা প্রজাতন্ত্রের যারা কর্মকর্তা-কর্মচারী হবেন, তারা হবেন জনগণের। তারা কোনো দলের হবেন না, সেটাই আমরা চাই। তারা থাকবেন সৎ, তারা দক্ষতার সাথে এ দেশকে তারা সেবা দিয়ে যাবেন। তখন যদি কেউ ব্যর্থ হয়, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের এ সহযোদ্ধাদের বিচার তো হতে হবে। এটা ন্যায্যতার দাবি। তবে কারো উপর অবিচার করা হবে না ইনশাআল্লাহ। কোনো পাইকারি জরিমানা হবে না, ন্যায়-অন্যায় সব কিছুকে গুলিয়ে ফেলার কোনো কর্মসূচি আমাদের নাই।'
জামায়াত আমির বলেন, 'আমরা কথা দিচ্ছি, মানুষ তো ভুল করতেই পারে। অনুতপ্ত হয়ে যদি তারা তাদের কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করে যে তারা তাদের কাজের জন্য লজ্জিত, অবশ্যই তাদের ব্যাপারটা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে হবে ইনশাআল্লাহ।'
তিনি বলেন, 'এই দেশ চালাতে হবে তো । এ মানুষগুলা এই দেশেরই মানুষ। তাদের কোথায় ফেলব? সাগরে? এদেরকে সাগরে ফেলতে পারব না। আর এত মানুষকে জায়গা দেওয়ার মতো জেল বাংলাদেশে নাই।'
তিনি আরও বলেন, 'লেজ ধরে, পা ধরে টানাটানি না করে কান ধরে টান দিলেই হয়ে যাবে। আমরা লেজ আর পা ধরব না, আমরা কান ধরে টান দিব। একজনের শাস্তি দেখে যেন হাজার জন শুদ্ধ হয়ে যায়।'
জামায়াত আমির বলেন, 'বিগত সময়ে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, যা জনগণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। সেই অর্থ ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে এবং তা ইনসাফভিত্তিক উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।'
জনসভা শেষে নেতারা কক্সবাজারের চারটি আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, 'এই নির্বাচন প্রতিশোধের নয়, বরং ন্যায়বিচার, ক্ষমা ও ইনসাফের মাধ্যমে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের নির্বাচন।'
