মির্জা আব্বাস দেশের ‘এক নম্বর ক্রিমিনাল’ ও ‘গডফাদার’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে বাংলাদেশের 'এক নম্বর ক্রিমিনাল' ও 'গডফাদার' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব অভিযোগ তোলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই মুখ্য সমন্বয়ক।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, 'আমরা প্রচারণা করতে গিয়েছি, তারা আমাদেরকে এসে হ্যারাস করেছে, বাধা দিয়েছে। আমরা এখানে বিএনপির বিরুদ্ধেও না, মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধেও না। স্পষ্ট কথা। আমরা এখানে যুবদল ছাত্রদল কারো বিরুদ্ধে না। আমরা সিস্টেমের বিরুদ্ধে। এখন এই এলাকা যদি চাঁদাবাজি চলে, এটার যদি পাহারাদার ছাত্রদল হয়—তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ফাইট হবে। আমাদের স্পষ্ট কথা।'
মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে নাসীরুদ্দিন বলেন, 'আমি আপনাদের সামনে আজকে মিডিয়ার সামনে বলে গেলাম, বাংলাদেশে যদি ক্রিমিনাল র্যাঙ্কিং করা হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অন্যতম গডফাদার এবং ক্রিমিনাল নাম্বার ওয়ান হলো মির্জা আব্বাস। আজকে আমি বেঁচে আছি বলে গেলাম, মরার পরে আপনারা প্রমাণ পাবেন বাংলাদেশের এক নাম্বার ক্রিমিনাল মির্জা আব্বাস।'
গতকালের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, 'মির্জা আব্বাস সাহেবকে বলব, মারেন যত মারেন মারেন। আমরা ১২ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করব। আমরা দরকার হয় আপনার পেটুয়া বাহিনী দিয়ে আমরা আমাদের লাশ ফেলে দেন। তারপরও আমরা ১২ তারিখ পর্যন্ত কিছু বলব না। কারণ আমরা গণতন্ত্র রক্ষা করতে চাই।'
মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তিনি বলেন, 'উনি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ইউনিটের। সেটা মিডিয়ার মাধ্যমে আপনারা একটু প্রকাশ করবেন। এবং ওই কলেজ কমিটি যেটা রয়েছে ওইখানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন মির্জা আব্বাস। ভিকারুননিসা নিয়ন্ত্রণ করেন, সিদ্ধেশ্বরী নিয়ন্ত্রণ করেন। এগুলা তো ওপেন সিক্রেট, মানুষ জানে এগুলা। ঢাকা-৮ আসনের বাসিন্দারা জানে।'
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমি তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে বলব... অনেকে বলেছে এইভাবে কথা না বলার জন্য। তারেক রহমান স্থায়ী কমিটিতে এরকম একটা সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দিল! আরও অনেকগুলা গডফাদার নিয়ে... এই যে ঢাকা-১১-তে কি নাম যেন—কাইয়ুম কমিশনার। এমন কোনো জায়গা নাই যে সে দখল করে নাই। এই যে ইশরাক, এই জমিদার পুত্র ইশরাক ঢাকা-৬-এ। এইসব সন্ত্রাসীদেরকে তারা নমিনেশন দিয়েছে।'
মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'আমরা সিস্টেমের বিরুদ্ধে। মির্জা আব্বাস সাহেব যদি আমার পায়ে পা পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে চায়, আমি উনাকে একটা জিনিসে বলতে চাই যে আমি খুব ভদ্র মানুষ, কিন্তু আপনি আমার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙবেন না। আপনি যদি মনে করেন যে, আপনার অনেক বড় রাজত্ব রয়েছে, অনেক বড় গুন্ডা বাহিনী, সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে, এটা দিয়ে নাসিরকে আপনি পিষে ফেলবেন, এটা আপনার ভুল ধারণা। কারণ যে একবার মরে গেছে, আমাদের এটা বোনাস লাইফ।'
তিনি বলেন, 'মির্জা আব্বাসের যে আমলনামা এটা বাংলাদেশের সকল মানুষ জানে। তারপরও একটা চোর, বাটপার, চিটার, ডাকাত, মাস্তান সে যদি বলে আমি ভদ্র মানুষ... তাহলে আমরা কোন সমাজে বসবাস করি? তো এইজন্য আমি বলব, মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নাই। উনি ভালো মানুষ। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান অনেক ভালো মানুষ, সমস্যা নাই।'
'কিন্তু বাংলাদেশে উনারা চাঁদাবাজি দুর্নীতি সন্ত্রাসী... এগুলা উনাদের বন্ধ করতে হবে, দাঁড়াতে হবে। আমি এগুলার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। আমি ভোট কয়টা পাই না পাই, কিন্তু আমি বলেছি বাংলাদেশে যতদিন জীবন থাকবে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েম, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমি কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ', যোগ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে নাসিরুদ্দিন বলেন, 'এখন মানুষ ভোট দেওয়ার আগে ইলেকশন কমিশন গোল দিয়ে দিয়েছে। ভোট ১২ তারিখ আসার আগেই ইলেকশন কমিশন ভোট দিয়ে আছে ঋণ খেলাপিদের পক্ষে, দুর্নীতিবাজদের পক্ষে, চাঁদাবাজদের পক্ষে। তো এটা কেমন ইলেকশন কমিশন বাংলাদেশে?'
ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নিজের লড়াই-সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'যারা বলে ৫ আগস্টের আগে আমি কোথায় ছিলাম, এগুলা বলে যারা প্রোপাগান্ডা করে, আমরা তাদের সাথে হাতও মিলাইতে চাই না, কোনো কিছু কাজ করতে চাই না। আমি আমার মতন কাজ করে যেতে চাই। অনেকে আমাকে বেয়াদব বলে। আমি যদি চাঁদাবাজি দুর্নীতি সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে দাঁড়ায়া বেয়াদব হইতে পারি, আমার বেয়াদব হতে সমস্যা নাই। শেখ হাসিনাও আমাদেরকে বেয়াদব বলেছিল, আরো রাজাকারও বলেছিল। তো একই সিস্টেম তো আছে এখনো।'
