কোনো দল সিট দেওয়ার মালিক নয়, আল্লাহ ও জনগণই সিদ্ধান্তকারী: মির্জা আব্বাস
ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, জনগণের ভোটই ক্ষমতার একমাত্র উৎস। কোনো দল বা গোষ্ঠী কাউকে সিট দেওয়ার মালিক নয়; আল্লাহ ও জনগণই একমাত্র সিদ্ধান্তকারী।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) মালিবাগ, মমেনবাগ এবং শাহজাহানপুরে ধানের শীষে ভোট চেয়ে গণসংযোগকালে গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন তিনি শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি মৈত্রী সংঘ মাঠে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণ করেন। রাতে তার শাহবাগ আনন্দবাজার মসজিদে নামাজ আদায় ও আশপাশে গণসংযোগ করার কথা রয়েছে।
জামায়াতের এক প্রার্থী 'ঢাকার সব আসনে তারাই জয়ী হবেন, কাউকে একটি সিটও দেবো না'—এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, 'একজন প্রার্থী বলেছেন ঢাকা শহরে তারা আমাদের কোনো সিট দেবে না। আমার প্রশ্ন আসন দেওয়ার মালিক তারা কে? আসন দেওয়ার মালিক আল্লাহ ও জনগণ। জনগণের ওপরে কথা বলা স্বেচ্ছাচারিতা ও অগণতান্ত্রিক আচরণ। তারা এসব বলার শক্তি পায় কোথায়? আমারতো এখন মনে হচ্ছে একটি বিশেষ শক্তি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কিছু করার চেষ্টা করছে, যা জনগণ ইনশাআল্লাহ প্রতিহত করবে।'
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাঁদাবাজি নিয়ে প্রকাশিত একটি ডকুমেন্টারি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'একজন মানুষকে ঘায়েল করতে যেসব অস্ত্র দরকার তারা সব ব্যবহার করছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে মিথ্যা ডকুমেন্টারি বানানো হচ্ছে, বট বাহিনী দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ভরিয়ে ফেলা হয়েছে। এসবের কোনো সত্যতা নেই। এই শ্রেণীর লোকেরা জাতির সামনে মিথ্যা বলে। আমরা তাদের ৭১, ৮৬ সালে দেখেছি। তারা জাতির জন্য কখনো উপকারী নয়।'
জামায়াত আমিরের সম্প্রতি দেওয়া 'ফ্যামিলি কার্ড' ও কর্মসংস্থান বিষয়ক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার ওই বক্তব্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তারা বলছেন বেকার ভাতা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। বিষয়টি জনগণই মূল্যায়ন করবে। এছাড়া এক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হলে আবারও বিএনপিতে ফিরবেন—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত বিষয়, এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, 'আমি চাই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হোক। কিন্তু কিছু দলের কথাবার্তা ও সরকারের একটি মহলের আচরণে মনে হচ্ছে 'ইজ সামথিং রং, কুছ কালা হ্যায়'। তবে বাংলাদেশের জনগণ সবসময় সচেতন ও প্রতিবাদী।'
তিনি আরও বলেন, '৭১ সালে খালি পায়ে লুঙ্গি পরে জনগণ পাকবাহিনীকে পরাজিত করেছে। আমরা আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করেছি, এরশাদকে প্রতিহত করেছি, এবারও সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত হবে ইনশাআল্লাহ।'
এলাকার স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, গত ১৭ বছরে তার এলাকাকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস এই এলাকাকে ধ্বংস করেছে। এই তিনটি সমস্যা থেকে এলাকাকে রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, 'এলাকার জনগণ যেভাবে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়েছিলেন, আজও তারা আমার ও আমার দলের কার্যক্রম বিবেচনা করে আবারও ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ইনশাআল্লাহ। আমি কাজ করছি, বাকিটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।'
