সম্পদের হিসাব দিলেন ফাওজুল কবির খান; জানালেন অন্য উপদেষ্টারাও জমা দিচ্ছেন
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা তাদের আয় ও সম্পদ বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য তাদের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পদ বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দফতরে জমা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান নিজের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে নিজের ও স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজ (২৬ জানুয়ারি) উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান তার স্ট্যাটাসে জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা ২০২৪' অনুসারে তিনি এবং তার স্ত্রী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পদ বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দফতরে জমা দিয়েছেন। এর আগে নিয়ম অনুযায়ী আয়কর রিটার্নের সাথে এই বিবরণীগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেও (এনবিআর) জমা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া তিনি গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের কার্যবিবরণীও দাখিল করেছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে এই উপদেষ্টা আরও লিখেছেন, 'দাখিলকৃত আয় সম্পদ বিবরণী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ বিবেচনায় সম্পূর্ণ নয়। কেননা এটা ৩০ শে জুন ২০২৫ পর্যন্ত আয় ও সম্পদের বিবরণী। জবাবদিহিতার স্বার্থে, ইনশা আল্লাহ ২০২৫-২৬ অর্থবছর সমাপ্তির পর পুনরায় আয় ও সম্পদ বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দাখিল করব।'
এ বিষয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ফাওজুল কবির খান বলেন, 'যতদূর জানি অন্যান্য উপদেষ্টা ও উপদেষ্টার সমমর্যাদার ব্যক্তিরাও তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে অনেকেই জমা দিয়েছেন।'
তবে এই বিবরণীগুলো সরকার জনসমক্ষে প্রকাশ করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, 'আমার দায়িত্ব ছিল জমা দেওয়া, আমি তা সম্পন্ন করেছি।'
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের বিষয়ে একটি নীতিমালা জারি করা হয়। নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের সম্পদ বিবরণী জমা দেবেন। যদি তাদের স্বামী বা স্ত্রীর পৃথক আয় থাকে, তবে সেই বিবরণীও একই সঙ্গে জমা দিতে হবে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন জনপ্রশাসন সচিব মো. মোখলেস উর রহমান জানিয়েছিলেন যে, দেশের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও প্রতিবছর সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ওই বছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই হিসাব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপকে দেশে সুশাসন ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
