দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১২ ‘হিমালয় গৃধিনী’ শকুন উদ্ধার, পাঠানো হলো হবিগঞ্জ পুনর্বাসন কেন্দ্রে
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গত কয়েক দিনে অত্যন্ত মুমূর্ষু অবস্থায় ১২টি হিমালয়ান বিপন্ন প্রজাতির বিশাল আকৃতির 'গৃধিনী শকুন' উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। এর মধ্যে কেবল ফেনী জেলা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ৪টি শকুন।
উদ্ধারকৃত এই পাখিগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়ন (আইইউসিএন) পরিচালিত হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা শকুন পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল সাদিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া শকুনগুলোর মধ্যে ৪টি উদ্ধার করা হয়েছে ফেনী জেলার সোনাগাজী ও গশুরাম এলাকা থেকে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিশাল আকৃতির এই পাখিগুলো দেখতে পেয়ে বন বিভাগকে খবর দিলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
এছাড়া শনিবার (২৪ জানুয়ারি) একদিনেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও বেশ কিছু শকুন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে ১টি, ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে ১টি, কুমিল্লা থেকে ২টি এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই ইপিজেড এলাকা থেকে ১টিসহ মোট ১২টি হিমালয় গৃধিনী শকুন উদ্ধার করা হয়েছে।
বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল সাদিক বলেন, 'এই 'গৃধিনী শকুন'গুলো সাধারণ শকুনের তুলনায় অনেক বড়। এক একটির ওজন ১০ থেকে ১২ কেজি এবং উচ্চতা ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত হয়। এদের ডানাও বিশাল আকৃতির।'
কেন এগুলো লোকালয়ে চলে আসছে—এমন প্রশ্নের জবাবে বন বিভাগ জানায়, শীতের তীব্রতা বাড়লে ভারত, নেপাল, ভুটান ও তিব্বত অঞ্চলের পাহাড় থেকে খাদ্যের সন্ধানে হিমালয় গৃধিনী শকুনগুলো দক্ষিণ দিকে অর্থাৎ বাংলাদেশের সমতলে নেমে আসে। তবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কারণে এবং তীব্র খাদ্য সংকটে শকুনগুলো প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উড়তে না পেরে এরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাটিতে আছড়ে পড়ে।
এই বিশাল আকৃতির পাখিগুলোকে দেখে অনেক সময় স্থানীয় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে অজ্ঞতাবশত স্থানীয়রা এগুলোকে মেরেও ফেলে। তবে এখন অনেক স্বেচ্ছাসেবী ও সচেতন নাগরিক পাখিগুলোকে উদ্ধার করে বন বিভাগে খবর দিচ্ছে।
উদ্ধারের পর পাখিগুলোর ভাগ্যে কী ঘটে—জানতে চাইলে আবদুল্লাহ আল সাদিক বলেন, 'উদ্ধার হওয়া পাখিগুলোকে প্রথমে প্রয়োজনীয় খাবার ও সুচিকিৎসা দেওয়া হয়। যখন তারা পুনরায় ওড়ার শক্তি ফিরে পায়, তখন তাদের প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। শকুনদের পুনর্বাসনের জন্য আইইউসিএন-এর সহায়তায় দেশে বর্তমানে তিনটি বিশেষ কেন্দ্র রয়েছে—সাভার, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ এবং হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা।'
উল্লেখ্য, প্রতিকূল পরিবেশ ও বিষাক্ত ওষুধের প্রভাবে বাংলাদেশে শকুন এখন বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির তালিকায়। পরিযায়ী এই হিমালয় গৃধিনী শকুনদের জীবন রক্ষায় বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
