আসন না ছেড়েও খেলাফত আন্দোলন ও জাগপা’র সঙ্গে যেভাবে জোট সামলাচ্ছে জামায়াত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় ঐক্যজোটের অন্যতম দুই শরিক দল হলো বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। খেলাফত আন্দোলন ৮টি এবং জাগপা ১টি আসনে প্রার্থী দিলেও এসব আসনের প্রতিটিতেই ১০-দলীয় ঐক্যের অন্য দলগুলোর প্রার্থী রয়েছেন।
এ নিয়ে খেলাফত আন্দোলনের ভেতরে অসন্তোষের কথা শোনা গেলেও জাগপার মুখপাত্র ও সিনিয়র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "আমাদের কোনো অভিমান নেই। আমরা কোনো ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতিও নিইনি। তারা আমাদের তিনটি আসন দিতে চেয়েছিল, কিন্তু বাস্তবতার কারণে আমরা নিইনি।"
জানা গেছে, জোটের শীর্ষ দল জামায়াতে ইসলামী নিম্নকক্ষের সংরক্ষিত আসন ও উচ্চকক্ষের আসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা বজায় রেখেছে।
এ বিষয়ে জামায়াতের একাধিক নেতা জানান, খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে উচ্চকক্ষের দুটি আসন নিয়ে নির্দিষ্ট আলোচনা হলেও জাগপার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। জামায়াতের পক্ষ থেকে আলোচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও জাগপা নির্বাচনের পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চেয়েছে।
খেলাফত আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মহিউদ্দীন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "আমরা ৮টি আসনে নির্বাচন করলেও সেগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে উন্মুক্ত আছে। তৃণমূলে কিছু অসন্তোষ থাকলেও জামায়াত আমাদেরকে উচ্চকক্ষে দুটি আসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে। আমাদের আমির নিম্নকক্ষে নির্বাচন করলেও জামায়াত তাকে সহ আরেকজনকে উচ্চকক্ষে মনোনীত করবে।"
তিনি আরও বলেন, "এই কারণেই আমরা জোট ছাড়িনি। আমাদের তুলনায় জামায়াতের সব আসনেই নির্বাচনী প্রস্তুতি বেশি ছিল। বাস্তবতা বিবেচনায় আমরা এ বিষয়ে চাপাচাপি করিনি। জামায়াত আমাদের কথা দিয়েছে, আর আমরা বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি বুঝেছি।"
১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঢাকায় ও কুমিল্লা অঞ্চলে সর্বোচ্চ তিনটি আসনে এবং ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর অঞ্চলে একটি করে আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থীরা হলেন—ঢাকা-৭ আসনে দলের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী, ঢাকা-১৬ আসনে মাওলানা তাওহিদুজ্জামান, শরীয়তপুর-২ আসনে মাওলানা মাহমুদুল হাসান, নেত্রকোনা-২ আসনে মাওলানা গাজী আবদুর রহিম, ফেনী-১ আসনে মাওলানা আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, ফেনী-২ আসনে আবুল হোসাইন ফারুক এবং ফেনী-৩ আসনে অ্যাডভোকেট খালিদুজ্জামান খালেদ পাটোয়ারী।
এই আসনগুলোর মধ্যে সাতটিতে জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন, একটি আসনে এনসিপির প্রার্থী আছেন। এ ছাড়া একটি আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী রয়েছেন।
অন্যদিকে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে যশোর-৩ আসনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নিজাম উদ্দীন নির্বাচন করছেন। ওই আসনে জামায়াতের প্রার্থী সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের।
এদিকে, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, "দিনাজপুরের একটি আসনে আমাদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু এ সময় তার ওপেন হার্ট সার্জারি হওয়ায় তিনি নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।"
তিনি আরও বলেন, "এনসিপি জোটে আসার আগে পঞ্চগড়-১ আসনটি আমার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এনসিপি আসার পর সেখানে সারজিস আলমকে জায়গা দিতে হয়েছে। এরপর পঞ্চগড়-২ আসনের কথা বলা হলেও সেখানে জামায়াতের প্রার্থী এক বছর ধরে মাঠে গুছিয়ে রেখেছেন। সে বাস্তবতায় আমি সেখান থেকেও সরে দাঁড়াই।"
রাশেদ প্রধান বলেন, "জামায়াতের শীর্ষ পর্যায় থেকে নারী সংরক্ষিত আসন ও উচ্চকক্ষের আসন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে চাওয়া হয়েছিল। আমরা বলেছি, সে আলোচনা নির্বাচনের পরে হবে।"
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর এক শীর্ষ নেতা জানান, সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জাগপার সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন, তবে তা এগোয়নি। জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি নারী সংরক্ষিত আসন ও একটি উচ্চকক্ষের আসন দেওয়ার প্রস্তাব ছিল।
