জমি দখলের অভিযোগে রূপায়ণ হাউজিংয়ের চেয়ারম্যানসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
সরকারি খাস জমি ও ভাওয়াল এস্টেটের সম্পত্তি আত্মসাৎ, জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলসহ মোট ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও সাক্ষ্য–প্রমাণে দেখা গেছে, রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড ও রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে জমির মালিকানা ও চলমান মামলার তথ্য গোপন করেছেন। এর ফলে কোম্পানির অনুকূলে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নির্মাণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দুদকের মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— লিয়াকত আলী খান মুকুলের স্ত্রী রোকেয়া বেগম নাসিমা ও ছেলে মাহির আলী খান রাতুল; রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের পরিচালক ফরিদা বেগম ও আলী আকবর খান রতন; এবং এস্টেট অফিসার সাজ্জাদ হোসেন। এছাড়া মামলায় রাজউকের যেসব কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন— উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগ ও মো. সিরাজুল ইসলাম, রেখাকার মো. আলমগীর কবীর এবং নকশাকার মো. এমদাদুল হক মুনসী।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড অভিযোগকারীর সঙ্গে ২.৫১ একর জমি নিয়ে বায়না ও সমঝোতা চুক্তি করে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না করে রূপায়নের পক্ষে ভূমি বিভাগের প্রধান সাজ্জাদ হোসেন জমিটির মালিকানা দাবি করে ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় ২০১৩ সালে বিতর্কিত জমির ওপর স্থিতিবস্থা জারি করা হয়, যা ২০২২ সালে আদালত পুনরায় বহাল রাখেন।
এদিকে অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ২০১৮ সালে উভয় পক্ষের সম্মতিতে একজন আইনজীবীকে আরবিট্রেটর নিয়োগ করা হয়। আরবিট্রেটর অভিযোগকারীর পক্ষে রায় দিয়ে প্রতি কাঠা ১ কোটি ২৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা হিসেবে মোট ১৯২ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন।
এরপর রূপায়ণ হাউজিং আরবিট্রেটরের রায় বাতিলের চেষ্টা করলে ২০২৩ সালে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারীর অনুকূলে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন এবং জমির ওপর পুনরায় স্থিতিবস্থা জারি করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বিতর্কিত জমির মধ্যে ২.৩৫ একর ভাওয়াল রাজ এস্টেটের সম্পত্তি এবং রানাভোলা মৌজার আরেকটি দাগ সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি। এসব জেনেও অভিযুক্ত রাজউক কর্মকর্তারা রূপায়ণ হাউজিংয়ের অনুকূলে নকশা অনুমোদন ও নির্মাণ ছাড়পত্র দেন, যার মাধ্যমে জমিতে অবৈধ নির্মাণ সম্ভব হয়।
