ফ্যাসিস্টরা যেমন ভোটাধিকার হরণ করেছিল, একইরকম ষড়যন্ত্র শুরু করেছে একটি কুচক্রী মহল: তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জনসভার জন্য নির্ধারিত নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রস্তুতকৃত মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, 'ঠিক যেমন ফ্যাসিস্টরা ভোটাধিকার হরণ করেছিল, একইরকম ষড়যন্ত্র শুরু করেছে একটি কুচক্রী মহল।'
এর আগে, জনসভার জন্য আজ ভোর থেকেই সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে জড়ো হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাদ্রাসা মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। নেতাকর্মীদের হাতে দলীয় পতাকার পাশাপাশি ধানের শীষের প্রতিকৃতি এবং তারেক রহমানের ছবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে তারেক রহমান, বিএনপির বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বক্তব্য রাখেন সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা।
সমাবেশে সিলেটের ভাষায় 'আপনারা বালা আছইন নি?' [আপনারা ভালো আছেন?] বলে বক্তব্য শুরু করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "যারা একবছর আগে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে তারা মানুষের টুটি চেপে ধরেছিলো। বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম খুন করেছে। তারা উন্নয়নের নামে দেশের সম্পদ লুট করেছে। আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই।"
তিনি আরও বলেন, "গত ১৫ বছরে নিশি রাতের নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো।"
তারেক রহমান বলেন, "৭১ সালে মানুষ যেভাবে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলো, ২০২৪ সালে মানুষ রাস্তায় নেমে স্বাধীনতা রক্ষা করেছে।"
কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমরা দেশের কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। ধানের শীষকে বিজয়ী করলে কৃশকদের পাশে দাঁড়াতে পারবো। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খাল খনন শুরু করেছিলেন। আমরা বিজয়ী হলে আবার খাল খনন শুরু করবো।"
পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, "গত ১৫/১৬ বছর এই দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দিয়ে দিয়েছিলো। সেজন্য আমি বলেছি, 'দিল্লি নয় পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।'"
নারী ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, "আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সকল পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডকে বাস্তবায়ন করতে, কৃষি কার্ড বাস্তবায়ন করতে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।"
তিনি বলেন, "শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চাই। বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই। আমরা কাউকে বেকার রাখতে চাই।"
প্রবাসসংক্রান্ত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "সিলেটের বিদেশগামী তরুণদের ট্রেনিং ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দক্ষ মানুষদের আমরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে চাই।"
নির্বাচন প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, "কয়েকদিন ধরে খেয়াল করছি, দেশের ভেতরের কিছু কিছু মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ঠিক যেমন ফ্যাসিস্টরা ভোটাধিকার হরণ করেছিল, একই রকম ষড়যন্ত্র শুরু করেছে একটি কুচক্রী মহল। কিছু ২০২৪ সালে প্রমাণ হয়েছে, দেশের মানুষ রাস্তায় নামলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।"
ধর্মের নামে রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, "নির্বাচনের আগে একটি দল বেহেশত দিবে বলছে। বেহেস্তের মালিক আল্লাহ। তারা এটা দেওয়ার কথা বলে শিরক করেছে। তারা মানুষকে ঠকাচ্ছে।"
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা রয়েছে, তাদের কারণে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছে। তাদের তো মানুষ দেখেই ফেলেছে। সে জন্যই বলি, 'দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়।'"
বক্তব্যের শেষ দিকে তারেক রহমান বলেন, "আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছি। এখন ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশকে গড়ে তুলতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। এজন্যই আরেকটা কথা বলি, 'করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।'"
তিনি আরও বলেন, "ইনশাল্লাহ, বিএনপি বিজয়ী হলে আমরা নবী করিম (স.) এর ন্যায়পরায়ানতার ভিত্তিতে দেশ গড়ে তুলবো।"
সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "দীর্ঘ ১৫ বছর মানুষ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। গুম হয়েছে, খুন হয়েছে। কিন্তু মাথা নত করেনি।"
তিনি আরও বলেন, "জিয়াউর রহমানের দর্শন ছিলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বাংলাদেশের উন্নয়ন।"
আজকে সিলেট থেকে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার যাত্রা শুরু হলো বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, "একটি দল আছে, যারা আমাদের দল, আমাদের নেতার বিরুদ্ধে নানান কুৎসা রটনা করছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। সেই দল সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। সেই দল কে কি আপনারা চেনেন? তারা কি ভোট পাবে?"
সমাবেশে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১১টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান। সকাল ১০টা থেকে তারা আসন গ্রহন করতে শুরু করেন। এছাড়া, জুলাই আদোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও সমাবেশে যোগ দেবেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে বুধবার রাতে সিলেট সফরে আসেন তারেক রহমান। সিলেটে এসে তিনি হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.) এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর মধ্যরাতে দক্ষিণ সুরমার সিলামে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে নানা আয়োজনে তাকে বরণ করা হয়।
