২০ বছর পর ‘শ্বশুরবাড়ি এলাকায়’ যাচ্ছেন তারেক রহমান: মাজার জিয়ারত শেষে শুরু করবেন নির্বাচনি প্রচারণা
যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে একাধিক অনুষ্ঠানে সিলেটকে নিজের 'দ্বিতীয় বাড়ি' হিসেবে অভিহিত করেছেন তারেক রহমান। এই পুণ্যভূমিতে তার শ্বশুরবাড়ি। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর সেই সিলেটে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর মধ্যে দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি যুক্তরাজ্যে ছিলেন। সর্বশেষ যখন সিলেট গিয়েছিলেন, তখন তিনি ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব; তবে এবার যাচ্ছেন দলের সর্বোচ্চ অভিভাবক ও চেয়ারম্যান হিসেবে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে ফেরার পথে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি প্রথমে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল। সেখানে কিছুক্ষণ যাত্রাবিরতি শেষে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সেদিন বিমান থেকে নামেননি তিনি।
নির্বাচনি প্রচার শুরু করতে আগামীকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) সিলেট যাচ্ছেন তিনি। ওইদিন বিকেলে বিমানযোগে তার সিলেটে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রাতে তিনি বিমানবন্দরের নিকটবর্তী একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অবস্থান করবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করবেন তারেক রহমান। এরপর সকাল ১১টায় নগরের আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি। আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে এটিই হবে বিএনপির প্রথম জনসভা।
তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে সিলেটে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। জনসভা সফল করতে প্রতিদিন মিছিল, সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে ব্যানার, ফেস্টুন আর বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে পুরো নগরী। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে, যেখানে এখন চলছে মঞ্চ নির্মাণের কাজ। সব মিলিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসবমুখর আমেজ বিরাজ করছে।
তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, 'তারেক রহমানকে বরণ করতে পুরো সিলেট প্রস্তুত। প্রিয় নেতার জন্য সিলেটবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা আশা করছি বৃহস্পতিবারের জনসভায় তিনলক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে। সে রকমই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই জনসভায় সিলেটের পাশাপাশি সুনামগঞ্জের ৫ আসনের বিএনপির প্রার্থীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।'
এদিকে, তারেক রহমানের নিরাপত্তায় সব ধরনের নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী।
বিএনপি নেতা-কর্মীরা জানান, আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভা শেষে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন তারেক রহমান। যাত্রাপথে তিনি মৌলভীবাজারের শেরপুর ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আরও দুটি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এসব সভায় সংশ্লিষ্ট জেলার সংসদ সদস্য প্রার্থীদের তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবেন। এছাড়া কয়েকটি পথসভাতেও তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
সর্বশেষ ২০০৫ সালে সিলেট সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দিতে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন, যা সে সময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। দুই দশক পর এবার নিজের শ্বশুরবাড়ির এলাকায় তার এই সফরকে ঘিরে অন্যরকম উন্মাদনা কাজ করছে। দলের চেয়ারম্যান হওয়ার পর ঢাকার বাইরে এটিই তার প্রথম রাজনৈতিক সফর।
সিলেটে দুই মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচরি প্রচার শুরু করা বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানও সেই পরম্পরা বজায় রাখছেন। ইতিপূর্বে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সিলেট থেকেই তার নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছিলেন। ১৯৯১ সাল থেকে পরবর্তী প্রতিটি নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়াও একই ঐতিহ্য অনুসরণ করেছেন।
যুক্তরাজ্যে দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এর মাত্র পাঁচদিন পর ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা যান। এর ১০ দিন পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোটের প্রচার শুরুর বিষয়ে গত শনিবার সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারেক রহমান বলেন, 'সামনে নির্বাচন, আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ তারিখ থেকে আমাদের সকল রকম পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।'
প্রসঙ্গগত, তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমায়।
