রাউজানে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মনোনয়ন চূড়ান্ত
গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-৬ আসন রাউজানের প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। আজ (১৯ জানুয়ারি) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা একটি চিঠির মাধ্যমে তাকে এ প্রার্থীতা দেওয়া হয়।
কাদের চৌধুরী এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর রাউজান আসনের জন্য বিএনপির সাময়িক মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে তার এই মনোনয়নের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের সমর্থকরা বিক্ষোভ করেন। এরপর ২৮ ডিসেম্বর দল গোলাম আকবরকেও মনোনয়নপত্র প্রদান করে, যার ফলে উভয় প্রার্থীই দলীয় প্রতীকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী একই সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা উভয়ের মনোনয়নপত্রই বৈধ বলে ঘোষণা করেন।
বর্তমান নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, একটি রাজনৈতিক দল শুরুতে একটি আসনের জন্য একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে পারে। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে দল থেকে একজনকে দলীয় প্রতীকের জন্য মনোনীত করতে হয় এবং সেই অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হয়। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিএনপি গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে রাউজান আসনের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করেছে, যার মাধ্যমে ওই আসনের প্রার্থী নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান ঘটল।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং একই দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেবেন।
ঐতিহাসিকভাবে, বিএনপি সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ আসনে জয়লাভ করেছিল, যখন গিয়াস কাদের চৌধুরী এখন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে পরাজিত করেন। তখন থেকেই গিয়াস কাদের এবং গোলাম আকবরের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন ও নেতৃত্ব নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলে আসছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়। এই সময়ে রাউজানে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ১২টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং ১০টি মৃত্যু সরাসরি বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের সাথে যুক্ত। শতাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় আরও শত শত মানুষ আহত হন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কাদের চৌধুরীর ভাইস-চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করা হয় এবং গোলাম আকবরের নেতৃত্বে থাকা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। যদিও এই পদক্ষেপগুলো উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করেছিল, তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পুনরায় অস্থিরতা শুরু হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে গিয়াস কাদেরের এক সমর্থক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন, যা এই নির্বাচনী এলাকার চলমান অস্থিতিশীলতার প্রতিফলন।
