চট্টগ্রামে রাবার বাগান থেকে ‘অতি বিপন্ন’ সাম্বার হরিণ উদ্ধার, বনে অবমুক্ত
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার একটি রাবার বাগান থেকে স্থানীয় শিকারিদের কবল থেকে একটি 'অতি বিপন্ন' সাম্বার হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বন বিভাগের পরামর্শে হরিণটিকে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।
গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাউজানের বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফআইডিসি) হলদিয়া রাবার বাগানে ঘটনাটি ঘটে। মাঝারি বয়সের এই হরিণটি একটি ছোট হরিণ পালের সাথে ছিল। শিকারিদের ধাওয়ায় হরিণটি সামান্য আহত হয়। এরপর বাগান কর্তৃপক্ষের নিবিড় তত্ত্বাবধানে দুই দিন রাখার পর রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সেটিকে বনে অবমুক্ত করা হয়।
হলদিয়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক রবিউর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) জানান, একদল সাম্বার হরিণ বাগানের এলাকায় পানি পান করতে এলে স্থানীয় শিকারিরা সেগুলো ধরার চেষ্টা চালায়।
তিনি বলেন, 'শিকারিরা হরিণের দলটিকে ধাওয়া করার একপর্যায়ে মাঝারি বয়সের একটি হরিণ ধরে ফেলে। খবর পাওয়ামাত্রই আমরা সেটিকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করি।'
তিনি আরও জানান, পালানোর চেষ্টাকালে হরিণটি সামান্য আঘাত পেয়েছিল। বাগান কর্তৃপক্ষ সেটিকে নিজেদের পর্যবেক্ষণে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
রবিউর রহমানের ভাষ্যমতে, হরিণ উদ্ধারের বিষয়টি গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বন বিভাগকে জানানো হয়। পরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর হরিণটিকে বাগানের প্রাকৃতিক পরিবেশেই ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য টিবিএসকে বলেন, 'হরিণটির টিকে থাকার সম্ভাবনা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'বাগান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই রাবার বাগান এবং এর আশেপাশের এলাকায় একদল সাম্বার হরিণ বিচরণ করে। উদ্ধার হওয়া হরিণটিকে যদি সাফারি পার্কে পাঠানো হতো, তবে সেটি তার সঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। এতে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যেত। এ কারণেই আমরা হরিণটিকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক আবাসে ফিরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।'
দীপান্বিতা ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন যে, একসময় চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল ও সিলেটের বনে প্রচুর পরিমাণে সাম্বার হরিণ দেখা যেত। কিন্তু ব্যাপক বন উজাড় ও অবৈধ শিকারের ফলে এই প্রজাতিটি এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।
তিনি আরও বলেন, 'অস্তিত্ব রক্ষার এই সংকটের কারণে বাংলাদেশে সাম্বার হরিণ বর্তমানে অতি বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত।'
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ দিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, বনভূমি দখল এবং অবাধে বন্যপ্রাণী শিকার দেশের অবশিষ্ট প্রাণী বৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
