নির্বাচনি অনুদানের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করেছেন সাবেক এনসিপি নেত্রী তাজনূভা জাবীন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করা তাজনূভা জাবীন তার সমর্থকদের কাছ থেকে নেওয়া নির্বাচনী প্রচারণার অনুদানের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংগৃহীত মোট তহবিলের প্রায় ৫৭ শতাংশ অর্থ ইতোমধ্যে দাতাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
১৪ জানুয়ারি ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জাবীন জানান, অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত মোট ৮ লাখ ৭৭ হাজার ১১২ টাকার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
জাবীনের মূলত ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। তিনি জানান, যেসব দাতাকে শনাক্ত করা গেছে—বিশেষ করে যারা বিকাশের মাধ্যমে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান পাঠিয়েছিলেন—তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে ক্রাউড ফান্ড বা গণতহবিলের মাধ্যমে অনুদান দেওয়া বাকি দাতাদের শনাক্ত করতে কিছু জটিলতা এখনো রয়ে গেছে।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, 'বাকি যাদের টাকা আছে (বিশেষ করে ব্যাংকে) তাদের টাকা ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে ডোনারকে ট্রেস করতে ডোনারের সহযোগিতা প্রয়োজন।'
তিনি আরও জানান, প্রবাসী যেসব দাতা রেমিট্যান্সের মাধ্যমে অর্থ পাঠিয়েছেন, তাদের টাকা ফেরত পেতে স্থানীয় কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ করতে যারা এখনো অনুদান ফেরত পাননি, তাদের জন্য একটি ডিজিটাল ফর্মও শেয়ার করেছেন তিনি।
তিনি লিখেছেন, 'অনুদান ফেরত দিতে গিয়ে অনেকের সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছে। আমি এমন একজনকেও পাইনি যারা টাকা ফেরত চেয়েছে, প্রত্যেকে আমাকে শুভকামনা জানিয়েছেন, সামনে আগাতে সাহস দিয়েছেন।'
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, 'আমি কৃতজ্ঞ আপনাদের প্রতি। বাকিটা সময় বলে দিবে আমি কতটুকু কি করতে পারি।'
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তাজনূভা জাবীন।
ফেসবুকে তিনি লেখেন, 'অনেকে হয়তো ভাববেন, জামায়াতের ঐতিহাসিক কারণ বা নারী বিষয়ক কারণে আমি আপত্তি জানিয়েছি। কিন্তু এটি এর চেয়েও ভয়ংকর। কারণ, সেটা হলো যে প্রক্রিয়ায় এটা হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনি জোট ইত্যাদি নাম দেওয়া হচ্ছে। আমি বলব এটা পরিকল্পিত। এটাকে সাজিয়ে এ পর্যন্ত আনা হয়েছে।'
