টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রতারণা করে অর্থ আদায়: ৫ চীনা নাগরিকসহ ৬ জন রিমান্ডে
টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গ্রুপ খুলে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইনে গ্রেপ্তার পাঁচ চীনা নাগরিকসহ ৬ জনের দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. জাকারিয়া, চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, ও হুয়াং ঝেং জিয়াং। এর আগে, আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম ডিবির উপ-পরিদর্শক অরুপ তালুকদার।
আবেদনে বলা হয়, আসামি জাকারিয়াসহ কয়েকজন অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্যাক্তির নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত বিকাশ ও নগদের এজেন্ট সীম সংগ্রহ করে এবং গ্রেপ্তার চীনা আসামিদের কাছে হস্তান্তর করে। চীনা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে বিকাশ এবং নগদের এজেন্ট সিম সংগ্রহ করেন৷ এরপর তারা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অবৈধ অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনা ও এজেন্ট সিমগুলো দিয়ে লেনদেন করে আসছেন। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে, তিনি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা অবৈধভাবে নিবন্ধিত সিমকার্ড ও বিকাশ, নগদ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে অনলাইনে প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত সিমকার্ড থেকে অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যা যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। সময় স্বল্পতার কারণে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
এদিকে, আসামিদের পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন, রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত ১২ জানুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৯ নম্বর সেক্টর থেকে ৫ জন বিদেশি নাগরিকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছে থেকে অনলাইনে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৭টি মোবাইল, বিভিন্ন অপারেটরের ১৮৪টি সিম, পাঁচটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক ক্রিদীপ বড়ুয়া মামলাটি দায়ের করেন।
ডিবি সাইবার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রতারকরা কখনো চাকরি দেওয়ার নামে, কখনো ভালো মুনাফায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বা কখনো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সস্তায় সরবরাহের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত।
