গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জঙ্গি হামলার শঙ্কা: ‘আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, কাজ করছি’, বলল ডিএমপি
জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় উগ্রবাদীদের হামলার শঙ্কা নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
শনিবার (২৪ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন এসব কথা বলেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীর নাম এখন প্রকাশ করেননি তিনি।
হামলার আশঙ্কা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হলেও তা নাকচ করে দিয়ে মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, 'আমরা এই তথ্যটা পেয়েছি এবং সিটিটিসি সাইবার ইন্টেলিজেন্স এটা নিয়ে কাজ করছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা কাজ করছি, ইনশাল্লাহ আমরা এটাকে ফেস (মোকাবিলা) করতে পারব।'
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এটা তো আমাদের সিকিউরিটি প্ল্যানিং, এটা আমার মনে হয় আপনাদের কাছে বলার বিষয় না। তবে যেসব স্থানের বিষয়ে তথ্য এসেছে, সিকিউরিটি প্ল্যানিং অনুযায়ী আমরা সেগুলোতে কাজ করব।'
হামলার পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ডদের শনাক্ত করা গেছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা সঠিক হবে না। এছাড়া এ ঘটনায় সশস্ত্র বাহিনীর কতজন সদস্য গ্রেপ্তার আছেন, সে বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী মন্তব্য করেছিলেন যে 'দেশে কোনো জঙ্গি নেই' এবং বিষয়টিকে তিনি 'আওয়ামী লীগের জঙ্গি নাটক' বলে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিটিটিসির এই কর্মকর্তা বলেন, 'দেখেন আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। আমরা (জঙ্গি) পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।'
সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার পরিকল্পনা করছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট প্রধানদের কাছে পাঠানো ওই বার্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের ওই বার্তায় নির্দিষ্ট সংগঠনের নাম উল্লেখ না থাকলেও জানানো হয়েছে যে, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ইশতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদ নামের এক উগ্রবাদীর সঙ্গে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি হামলা চালানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা, নজরদারি বৃদ্ধি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।
এই সতর্কবার্তাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), সিটিটিসি-সহ পুলিশের সব প্রধান প্রধান ইউনিট ও জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
