যুক্তরাষ্ট্র বি১ ভিসা বন্ড শর্তাবলি পুনর্বিবেচনা করতে পারে: নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে আন্ডার সেক্রেটারি
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভ্রমণের সুবিধার্থে ভিসা বন্ড সংক্রান্ত শর্তগুলো শিথিল করার অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদী বি-১ ভিসার ক্ষেত্রে এই বন্ড থেকে অব্যাহতির প্রস্তাব দেন তিনি। এই অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্র সফররত খলিলুর রহমান ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা আজ (১০ জানুয়ারি) ফেসবুকে এক পোস্টে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জবাবে অ্যালিসন হুকার জানান, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং তারা ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বৈঠকে উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা বন্ড প্রথা শিথিলের অনুরোধ জানান। বিশেষ করে বি-১ স্বল্পমেয়াদী ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে বন্ড মওকুফের প্রস্তাব দেন। হুকার আশ্বাস দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে পর্যটকদের ভিসার মেয়াদের চেয়ে বেশি থাকার প্রবণতা কমে এলে ভিসা বন্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসা করে খলিলুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই সংকটের বৃহত্তম দাতা দেশ। তিনি এই সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অ্যালিসন হুক বিশাল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান এবং সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক বোঝা ভাগাভাগির ওপর জোর দেন। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য জীবিকা নির্বাহের সুযোগ বাড়ানোরও অনুরোধ করেন।
গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী বা 'স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স' মোতায়েন হলে বাংলাদেশ তাতে অংশ নিতে নীতিগতভাবে আগ্রহী বলে জানান নিরাপত্তা উপদেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এছাড়া বাংলাদেশি বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি অর্থায়ন এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উন্নয়নে সহায়তার অনুরোধ জানানো হলে যুক্তরাষ্ট্র তা বিবেচনার আশ্বাস দেয়।
খলিলুর রহমান বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও যোগ দেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ডেপুটি সেক্রেটারি মাইকেল জে. রিগাস নতুন রাষ্ট্রদূতকে শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথ গ্রহণ শেষে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, 'উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশের যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আমি নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে উন্মুখ হয়ে আছি।'
বৈঠক ও অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
