এনসিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়ক মীর আরশাদুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তিনি দলটিতে যোগদান করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাত থেকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন তিনি। বিএনপির মিডিয়া সেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর মীর আরশাদুল হক এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ওইদিন সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, এনসিপির সব দায়িত্ব ও পদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে দলটির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন না।
তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব, নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য, মিডিয়া সেল ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পরিবেশ সেলের প্রধান এবং চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পোস্টে মীর আরশাদুল উল্লেখ করেন, 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এনসিপির যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু এনসিপির প্রতিষ্ঠা থেকে এখন পর্যন্ত গত ১০ মাসের অভিজ্ঞতায় আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে এই দল ও দলের নেতারা সে প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। যে স্বপ্ন ও সম্ভাবনা দেখে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলাম, তার কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। দল ও বড় অংশের নেতারা ভুল পথে আছেন বলেই মনে করি আমি। এই ভুল পথে আমি চলতে পারি না। এই মুহূর্ত থেকে এনসিপির সাথে আমার কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই।'
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, '২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতন ও পলায়নের দিন আমি এতোই অভিভূত হয়েছিলাম যে মনে হয়েছিল এবার নতুন একটি বাংলাদেশ হবে। যেখানে মানুষের ন্যূনতম অধিকার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে তার বিপরীত৷ জুলাই অভ্যুত্থানের ১৪০০ অধিক শহীদ, হাজার-হাজার আহত এবং এত আত্মত্যাগের পরও একটা শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্যতার বাংলাদেশ দেখতে পাইনি৷ এনসিপিও এক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।'
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রে উত্তরণ ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মীর আরশাদুল হক বলেন, 'দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার কাছে মনে হচ্ছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার কোনো বিকল্প নেই। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের বিভিন্ন কার্যক্রম ও বক্তব্য পর্যালোচনা করে আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, এই মুহূর্তে সবাইকে ধারণ করে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা ও সক্ষমতা তিনিই রাখেন।'
তারেক রহমানের নেতৃত্বগুণ, ভিশন ও বিভিন্ন খাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তাকে আকৃষ্ট করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে তরুণদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, পপুলিজম বা হুজুগে প্রভাবিত না হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ ও জনকল্যাণের কথা বিবেচনা করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ার জন্য।
