মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয় ৬.৭ ডিগ্রি, শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় নওগাঁর বদলগাছিতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
টানা দুই দিন ধরে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে জেলায়। হিমশীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই কমছে তাপমাত্রা।
এছাড়া রাজশাহী আবহাওয়া অফিসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তেঁতুলিয়া অফিসে ৭.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং চুয়াডাঙ্গা অফিসে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৭ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
তিনি বলেন, 'বুধবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।'
ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশার কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। দিনের তাপমাত্রাও কমে আসছে এবং বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না।
তিনি আরও জানান, তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
শীতের কারণে প্রতিদিন বিকাল থেকেই সড়কে মানুষের উপস্থিতি কমছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। দিন ও রাতে হিমশীতল বাতাস বইছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ।
শীত থেকে বাঁচতে অনেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
আলমডাঙ্গা হাটবোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল হুদা বলেন, "কয়েক দিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে। আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপাকে পড়েছি। ঘরে-বাইরে একই রকম শীত অনুভূত হচ্ছে। অতিরিক্ত শীতে শরীর কাঁপছে।"
জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের রহিম বক্স বলেন, "মাঠে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষেতে জমে থাকা পানি বরফের মতো ঠান্ডা। হাত দিলেই ঝিনঝিন করে, লাল হয়ে যায়।"
চুয়াডাঙ্গা উজিরপুর গ্রামের দিনমজুর হাসেম আলী বলেন, "প্রতিদিন ভোরে কাজের সন্ধানে চুয়াডাঙ্গায় আসি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। শীতের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছি।"
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু কনসালট্যান্ট ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, "অতিরিক্ত শীত শিশুদের সহনশীলতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বেশিরভাগ শিশু সহজেই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় শতাধিক শিশু সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ব্রংকাইটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে।"
শীত মৌসুমে শিশুদের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্সগ দেন তিনি।
গোপালগঞ্জে মৌসুমের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
এদিকে, গোপালগঞ্জেও মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় মৌসুমের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ, ফলে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকেই তাপমাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। রাত ১২টার দিকে জেলার তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, "গত ৩০ ডিসেম্বর চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো গোপালগঞ্জে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কিছুটা বাড়লেও পরে আবার কমে গিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।"
তিনি জানান, চলতি মাসজুড়েই এ ধরনের শীতের প্রবণতা থাকতে পারে। তবে কুয়াশা কেটে গেলে দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিলতে পারে।
এদিকে, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে জেলার জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবীরা। সকাল ও রাতের দিকে কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলমান শৈত্যপ্রবাহে রবি মৌসুমের ধানের বীজতলা ও অন্যান্য শীতকালীন ফসলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা না নিলে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যগত ও নিরাপত্তামূলক সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
