গোপালগঞ্জের ৩ আসনেই জয়ের পথে বিএনপির প্রার্থীরা
গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই জয়ের পথে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া ভোট গণনার ফলাফল অনুযায়ী, এই জেলার সবকটি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিমুজ্জামান মোল্লা এগিয়ে আছেন। ৫টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ২১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী কাবির মিয়া। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও জেলা কমিটির সাবেক আমির মুহাম্মাদ আবদুল হামিদও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানীর সাত ইউনিয়ন) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কে এম বাবর। তিনি বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক। উল্লেখ্য, এই আসনে জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রার্থী দেয়নি।
গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী। এর আগে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন। রাত ১০টা পর্যন্ত এই আসনের ১৬টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এস এম জিলানী ৬ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭৯ ভোট। এছাড়া এই আসনের ৩২টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২টি কেন্দ্রের পোস্টাল ভোটের ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে এস এম জিলানী পেয়েছেন ১১ হাজার ৮৫৫ ভোট এবং গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৪৩ ভোট।
গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি হলেও কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। এই নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মোট ৩৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ২৬ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষিত হয়। অর্থাৎ প্রতিটি আসনে গড়ে ৮ জনের বেশি প্রার্থী লড়াই করেছেন। বিএনপি তিনটি আসনেই প্রার্থী দিলেও জামায়াতে ইসলামী দুটি আসনে প্রার্থী দিয়ে বাকি আসনটি জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেয়। এছাড়া এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদসহ আরও কয়েকটি দলের প্রার্থী এই তিন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মভিটা গোপালগঞ্জের তিনটি আসন বরাবরই দলটির 'দুর্গ' হিসেবে পরিচিত ছিল এবং এখান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই নিয়মিত জয়ী হতেন। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ-৩ আসনটি ছিল শেখ হাসিনার স্থায়ী আসন। তবে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় এবারের নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচন বর্জনের ডাক দেওয়া হলেও দলের পদধারী কোনো নেতাকে প্রকাশ্যে এসে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি; কারণ তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে এবং কেউ কেউ কারাগারে রয়েছেন। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের ভোট বর্জনের ডাক গোপালগঞ্জেই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়েছে।
ভোটের আগের দিন রাতে জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের ১২টি কেন্দ্রের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভোটের দিন সকালেও গোপালগঞ্জ শহরের রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে দুইজন আনসার সদস্য এবং একজন শিশু আহত হয়েছে।
