তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দফা মারধরে বসুন্ধরায় সেই আইনজীবীর মৃত্যু হয়: পুলিশ
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামের সেই আইনজীবীকে তুচ্ছ ঘটনায় দুই দফা মারধর করা হয়। এতেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. জোবায়ের হোসেন (২৯) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনিও এই কথা স্বীকার করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি জোবায়ের হোসেন গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি ওই আইনজীবীকে পেটানোর কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি আরো বলেন, ভুক্তভোগী ও জড়িতদের মধ্যে পূর্ব পরিচয় ছিল না। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বশে ওই আইনজীবীকে পেটানো হয়েছে বলে জবানবন্দিতে জানান জোবায়ের হোসেন।
ঘটনা সম্পর্কে মেহেদী হাসান আরো বলেন, ভুক্তভোগী নাঈম কিবরিয়া ওইদিন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে চলে যান। এ সময় তাকে দাঁড়াতে বললেও তিনি দাঁড়াননি। পরে জোবায়েরসহ কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে তার প্রাইভেটকারটি ধাওয়া করে বসুন্ধরা আই ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের মুখে তার পথরোধ করে। পরে তাকে প্রাইভেটকার থেকে নামিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। প্রথম ধাপে মারধরের পর নাঈমকে আরেকটি মোটরসাইকেলে তুলে আই ব্লকের ১৫ নম্বর সড়কে নিয়ে ফের মারধর করা হয়। এতে তিনি মারা যান।
গত ৩১ ডিসেম্বর থার্টি ফার্স্ট নাইটে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। তিনি পাবনা সদর উপজেলার গোলাম কিবরিয়ার ছেলে এবং পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনায় নিহতের বাবা গোলাম কিবরিয়া ভাটারা থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।
পরে ৪ জানুয়ারি গুলশানের ভাটারা এলাকা থেকে এই ঘটনায় জড়িত জোবায়ের হোসেনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১। পরে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।
