সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকে পড়েছে বাঘ, উদ্ধার করা হবে ট্রাংকুয়ালাইজার দিয়ে
মোংলার সুন্দরবনের শরকির খাল সংলগ্ন বনের ভিতরে চোরা শিকারীদের পাতা হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার (বাঘ) আটকা পড়ে। বনবিভাগ জানিয়েছে, রোববার সকালে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উদ্ধারকারী টিম অভিযান শুরু করবে। ধারণা করা হচ্ছে, শনিবার সকালে বাঘটি ফাঁদে আটকা পড়ে।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, মোংলার বৈদ্ধমারী ও জয়মনি এলাকার মাঝামাঝি শরকির খাল পাড় এলাকায় চোরা শিকারীদের পেতে রাখা হরিণের ফাঁদে বাঘটি আটকা পড়ে।
শনিবার দুপুরের পর খবর পেয়ে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান ফাঁদে একটি বাঘ আটকা রয়েছে। এরপর বনবিভাগের স্টাফরা খাল পাড় এলাকা ঘিরে রেখেছে, যাতে কেউ সেখানে প্রবেশ করতে না পারে।
দ্বীপন চন্দ্র দাস বলেন, খাল পাড় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বনের ভিতরে বাঘটি আটকা রয়েছে। শনিবার গভীর রাতে বাঘকে ফাঁদ থেকে সরে যেতে প্ররোচিত করার জন্য ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।
যদি বাঘ তখনও ফাঁদ থেকে সরে গিয়ে না থাকে, তাহলে ঢাকা থেকে বনবিভাগের একজন ভেটেরিনারি সার্জনসহ উদ্ধারকারী টিম এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করবে।
বাঘটি উদ্ধারে ট্রাংকুয়ালাইজার ব্যবহার করা হবে। বন্দুকের মাধ্যমে এটি বাঘের শরীরে প্রবেশ করানো হবে। ট্রাংকুয়ালাইজার কার্যকর হলে বাঘ প্রায় আধা ঘণ্টা অচেতন থাকবে। এরপর সেটিকে ফাঁদ থেকে মুক্ত করা হবে।
প্রয়োজনে বাঘটির অন্য কোন আঘাত বা অসুস্থতা থাকলে উদ্ধার করে লোহার খাঁচায় বন্দী করে খুলনা বা ঢাকায় বনবিভাগের রেসকিউ সেন্টারে পাঠানো হবে।
বনবিভাগ জানিয়েছে, ওই এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং উদ্ধারকার্যে একটি বিশেষ দল কাজ করছে।
