সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জাপা প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ‘গায়েব’ করার অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী জেসমীন নূর বেবীর মনোনয়নপত্র জমা নিয়েও তা 'গায়েব' করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই প্রার্থী।
লিখিত অভিযোগে জেসমীন নূর বেবী উল্লেখ করেন, গত ২৯ ডিসেম্বর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফেরদৌস আরার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেন। তবে জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (রিসিভ কপি) চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তা পরে দেবেন বলে জানান। একই সঙ্গে বেবীসহ আরও চারজন প্রার্থীকে কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে অন্য এক স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশকে ডেকে নিয়ে একান্তে আলাপ শুরু করেন তিনি।
জাতীয় পার্টির এই প্রার্থীর দাবি, ওই সময় তার মনে সন্দেহ জাগে। পরদিন তার একজন প্রতিনিধি রিসিভ কপির জন্য গেলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান যে, জেসমীন নূর বেবী কোনো মনোনয়নপত্র বা কাগজপত্র জমা দেননি। তবে বেবী দাবি করেছেন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে মনোনয়নপত্রসহ সকল কাগজপত্র জমা দেওয়ার ভিডিওচিত্র ও ছবি তার কাছে সংরক্ষিত আছে।
এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে আমার কক্ষে এসেছিলেন। তখন তিনি জানান যে তার কিছু কাগজপত্র আসা বাকি আছে এবং জমাদানের সিরিয়াল দিয়েছেন। সে সময় তার হাতে কিছু কাগজপত্র থাকলেও সেখানে মূল মনোনয়নপত্র ছিল না। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ায় তার মনোনয়ন আর গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।'
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জেসমীন নূর বেবীর অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বা ভিডিওচিত্রের সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশন প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
