তিন জোনে ‘কভার্ট অ্যান্ড ওভার্ট’ কৌশলে তারেক রহমানের নিরাপত্তা, থাকছে না এসএসএফ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুরো নিরাপত্তা ছক সাজানো হয়েছে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট—এই তিন জোনে ভাগ করে। একইসঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে 'কভার্ট অ্যান্ড ওভার্ট' (প্রকাশ্য ও গোপন) নিরাপত্তা কৌশল। তবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি থাকলেও তাকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনার পর একাধিক বৈঠক হয়েছে।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং বিএনপির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিরাপত্তাব্যবস্থাকে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে:
১. রেড জোন: এখানে প্রবেশের জন্য বিশেষ সিকিউরিটি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। ওই কার্ড ছাড়া কেউ এই জোনে প্রবেশ করতে পারবেন না।
২. ইয়েলো জোন: এই জোনের জন্যও থাকছে আলাদা কার্ড। নির্দিষ্ট কার্ডধারীরাই কেবল এখানে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
৩. হোয়াইট জোন: রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরের এলাকাটি হোয়াইট জোন হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারবেন।
তারেক রহমানের আগমনের দিন পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার প্রায় ২ হাজার সদস্য নিরাপত্তা দায়িত্বে মোতায়েন থাকতে পারেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, 'আমরা কভার্ট অ্যান্ড ওভার্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছি। অর্থাৎ পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা দায়িত্ব পালন করবেন। তবে তাকে এসএসএফ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।'
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা পরিকল্পনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে গুলশান পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা এবং তার বাসভবনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ও তারেক রহমানের বাসভবন দেয়ালঘেঁষা হওয়ায় দুটি বাসা এবং তারেক রহমানের অফিসকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। বাসা ও অফিসের মাঝখানের দূরত্ব ও চলাচলের পথকে অতিগুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকেই পুলিশের বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর রুটজুড়ে প্রতিটি থানা এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ এসকর্টসহ একাধিক চেকপোস্ট বসানো হবে। সাধারণত গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় ৯টি চেকপোস্ট চালু থাকলেও তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে চেকপোস্টের সংখ্যা ও জনবল বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তারেক রহমান। এরপর ২০০৮ সালে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবার যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি। এরপর থেকে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তারেক রহমানের সাজার রায় উচ্চ আদালত থেকে বাতিল করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি বেশ কিছু মামলা থেকে অব্যাহতি পান। আইনি বাধা অপসারিত হওয়ায় এখন তিনি দেশে ফিরছেন।
