নতুন সরকারের উচিত মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া: ৯ মানবাধিকার সংস্থা
বাংলাদেশের সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র সরকার এখন অনেক জরুরি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এর পাশাপাশি মানবাধিকারের স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার সুযোগও এখন তাদের সামনে। হিউম্যান রাইস ওয়াচসহ নয়টি মানবাধিকার সংস্থা মনে করে, সরকারের উচিত মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখা এক চিঠিতে এ কথা বলেছে তারা।
চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভূমিধস জয়লাভের পর ক্ষমতায় এসেছেন তারেক রহমান। এর আগে ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের ক্রমবর্ধমান নির্যাতনমূলক শাসনের অবসান হয়। গণবিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার (১৮ মাস) পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে হাসিনা সরকারের স্থলাভিষিক্ত হয় তারেক রহমানের সরকার। এভাবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের বিষয়টি উল্লেখের পর চিঠিতে নয়টি মানবাধিকার সংস্থা লিখেছে, হাসিনার শাসনামলের জোরপূর্বক গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডেরমতো ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্বিচারে আটক করেছে এবং সাংবাদিক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে মব-সন্ত্রাস বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে৷
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি ডাইরেক্টর মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ''পরিবর্তন আনার জন্য তারেক রহমানকে ব্যাপক ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে, যাদের (সমর্থনকারী) মধ্যে এমন অনেক বাংলাদেশিও রয়েছেন যারা একটি স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করার জন্য জীবনের ঝুঁকিও নিয়েছিলেন।''
তিনি আরো বলেন, ''সাফল্যের জন্য অর্থপূর্ণ সংস্কার প্রয়োজন, যাতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো জবাবদিহি এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে পারে, ধর্ম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার মতো অধিকারগুলো সমুন্নত রাখতে প্রকৃত প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা নিশ্চিত করা যায়।''
চিঠিতে তারেক রহমানের সরকারকে আরো যেসব বিষয় অগ্রাধিকারে রাখার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো হলো- নির্বিচারে আটক বন্ধ করা, অতীতের দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, 'নির্যাতনমূলক র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন' বিলুপ্ত করা এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
হিউম্যান রাইস ওয়াচসহ নয়টি মানবাধিকার সংস্থা আরো মনে করে, সরকারের উচিত বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অধিকার রক্ষা করা এবং একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করা৷ তারেক রহমানকে লেখা চিঠিতে নীতিগত ও আইনি পদক্ষেপের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশও করেছে ৯টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।
