রাজশাহীতে রাতভর গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো আওয়ামী লীগ কার্যালয়, রড খুলে নিয়ে যাচ্ছেন লোকজন
রাজশাহী নগরীর কুমারপাড়ায় অবস্থিত মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়টি এক্সকেভেটর দিয়ে রাতভর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে রড, ইট ও সিমেন্ট খুলে নিয়ে যাচ্ছেন লোকজন।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই দেখা যায়, বিভিন্ন মানুষজন কুমারপাড়ায় এসে ধ্বংসস্তূপ থেকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে রড আলাদা করছেন। পরে সেই রডগুলো ভ্যান ও রিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সকাল থেকে বেশ কয়েকটি গ্রুপকে এভাবে রড বাছাই করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এমনকি অনেকে ভবনের কলামগুলো হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ভেতর থেকে রড বের করে নিচ্ছেন।
সেখানে উপস্থিত সাব্বির হোসেন নামে একজন বলেন, 'রাতে এক্সকাভেটর দিয়ে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ধ্বংসস্তূপের কারণে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনের রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেছে। চারদিকে স্তূপ ছড়িয়ে পড়ায় যাতায়াত করা যাচ্ছে না। তাই রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য প্রথমে রডগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরপর ইট ও সুরকি সরানো হবে।'
আরেকজন জানান, অন্যরা রড নিয়ে যাচ্ছে শুনে তিনিও এখানে এসেছেন।
জানা গেছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুর খবরে বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে প্রথমে একটি এবং পরে আরও একটি এক্সকাভেটর নিয়ে এসে রাতভর আওয়ামী লীগ কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনও মহানগর আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। তবে তখন দোতলা ভবনটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এবার সেই দোতলা ভবনটি পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে।
