রাজশাহীতে গুটি আম পাড়া শুরু
জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী (আমের ক্যালেন্ডার) রাজশাহীতে গুটি আম পাড়া শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু বাগানে গাছ থেকে আম নামানোর মধ্য দিয়ে বাজারজাত করা শুরু হয়। এদিন বাগানীরা পাঁক ধরা হলুদাভ সবুজ কিংবা পুরোপুরি হলদে আমগুলো গাছ থেকে নামান।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আল মামুন হাসান বলেন, 'এ বছর ৮৯ শতাংশ গাছে আমের মুকুল এসেছিল। এ বছর গাছে আম স্বাভাবিক রয়েছে। প্রয়োজনমতো গাছে আম আছে। শিলাবৃষ্টি, ঝড় হয়নি।'
তিনি আরও বলেন, 'এবার ফলন ভালো রয়েছে। দাম ভালো পেলে কৃষকরা লাভবান হবেন।'
সরেজমিনে দেখা যায়, আজ জেলার বড় আমবাজার বানেশ্বর বাজারে কিছু আম কেনা-বেচা হয়েছে। শুরুর দিন জাত ও আকারভেদে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা মন আম বিক্রি হয়েছে।
বাগানীরা জানিয়েছেন, 'গুটি জাতের আমে পাক ধরেছে। আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে গোপাল, লক্ষণ ও হিমসাগরের পোক্ত হবে।'
পুঠিয়ার বানেশ্বের গ্রামের সুমন আলী বলেন, 'এ বছর আমের চেহারা, রং, রূপ, ঘ্রাণ, স্বাদ খুবই ভালো। আশা করা হচ্ছে, ফলনও ভালো হবে।'
আম চাষীদের ভাষ্যমতে, উত্তরে এ বছর কালবৈশাখি না হওয়ায় ফলন খুবই ভালো হবে।
রঘুনাথপুর গ্রামের সাগর জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আমের অনুকূলে। ঈদের পর ভালো জাতের আম বাজারে আসলে ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। কৃষকরা এবার লাভবান হবে বলে আশা করছেন তিনি।
যে উৎপাদন আশা করা হচ্ছে, তা দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানোর পরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন ফল বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, রাজশাহীতে চলতি বছর ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৭৮০ কোটি টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
আমের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে সব ধরনের গুটি আম নামানো শুরু হয়েছে। এরপর ক্রমান্বয়ে ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানিপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ, ৩০ মে থেকে হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি, ১০ জুন থেকে বানানা ম্যাঙ্গো ও ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম নামানো যাবে।
