এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি: বিভক্ত রায়ের পর শুনানির জন্য তৃতীয় বেঞ্চ নির্ধারণ
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিধাবিভক্ত রায়ের পর বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তৃতীয় বেঞ্চ নির্ধারণ করেছেন প্রধান বিচারপতি।
আগামী ৩১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শেষে বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় [কজলিস্ট] থাকলেও আদালত ছুটি শেষে শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন জানান, এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এর আগে দ্বিধাবিভক্ত রায় দিয়েছিলেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী রুলটি পুনরায় শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের এই তৃতীয় বেঞ্চটি নির্ধারণ করে দেন।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে তিনি বলেন, 'আজকের (১৮ ডিসেম্বর) কজলিস্টে বিষয়টি ছিল। আদালত বলেছেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ছুটি শেষ হলে এটি শুনানির জন্য তালিকায় আসবে। তবে এই রিটের ওপর নতুন করে শুনানি হবে না। আগের হাইকোর্ট বেঞ্চ যে রুল জারি করেছিল, সেই রুলের ওপরই শুনানি হবে।'
আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, 'হাইকোর্টের আগের ডিভিশন বেঞ্চের একজন বিচারপতি রুল নিষ্পত্তি করে চুক্তি প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন, আর অন্যজন রুল খারিজ করেছিলেন। এখন নতুন নির্ধারিত বেঞ্চ চুক্তি প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে আগের রুলের ওপর শুনানি গ্রহণ করবেন।'
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে করা রিট মামলায় দ্বিধাবিভক্ত রায় দেন হাইকোর্ট। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তির প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা (রুল অ্যাবসোলিউট) করেন। অন্যদিকে, অপর বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার তিনটি প্রশ্নে চুক্তির প্রক্রিয়া বৈধ বলে রায় দিয়ে রুল খারিজ করেন।
সে সময় রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রিটকারী পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেছিলেন, 'চুক্তির বৈধতা প্রশ্নে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুল অ্যাবসোলিউট করেছেন, আর পিউনি জাজ [অপর বিচারপতি] তিনটি প্রশ্নে খারিজ করেছেন। এরপর এই জাজমেন্ট মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে; তিনি তৃতীয় একটি বেঞ্চ করে দেবেন; সেখানে এ ব্যাপারে দেওয়া রায় চূড়ান্ত হবে।'
তৃতীয় বেঞ্চের রায় না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি প্রক্রিয়া চলমান রাখা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, 'এই অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাওয়া নৈতিক হবে বলে আমি মনে করি না। যেহেতু জ্যেষ্ঠ বিচারক রুল অ্যাবসোলিউট করেছেন, সেহেতু থার্ড বেঞ্চের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করা প্রয়োজন।'
উল্লেখ্য, এনসিটি পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানি গত ২৫ নভেম্বর শেষ হয় এবং ৪ ডিসেম্বর রায়ের দিন ধার্য ছিল।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আহসানুল করিম ও কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন হেলাল চৌধুরী।
বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন এই রিট মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নৌসচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
